Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘হপ্তা’ না দেওয়া কয়েকজনকে মারধর, ৫০ হাজার টাকা লুট

‘হপ্তা’ না দেওয়া কয়েকজনকে মারধর, ৫০ হাজার টাকা লুট
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: সালারে সিন্ডিকেট রাজ! ছোট হোক বা বড়, দোকান খুললেই দিতে হবে হপ্তা। দুষ্কৃতীদের এমন ফতোয়া জারির পরেও হপ্তা না দিতে চাওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। ব্যবসায়ীর দোকান ও বাইক ভাঙচুরের পর ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করার অভিযোগও উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্যবসায়ীকে মারধরের সময় তাঁর ঘনিষ্ঠরা বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে শনিবার সকালে বাসিন্দারা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেন।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সালারের দফাদার পাড়ায় চালের দোকান রয়েছে শাহজাহান শেখের। শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ তিনি দোকান বন্ধ করছিলেন। সেইসময় কয়েকজন দুষ্কৃতী মুখে মাস্ক পরে দোকানের সামনে হাজির হয়। এরপর প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে বচসা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা। মারধরে পাঁচজন জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দোকান মালিক শাহজাহান সহ বাবু খাঁ, আজিজুল ইসলাম ও মিরাজ শেখকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। একমাত্র আক্রান্ত মহিলা রুনা বিবি সালার গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
আক্রান্ত ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, সালারে কয়েকজন দুষ্কৃতী সিন্ডিকেট রাজ শুরু করেছে। ব্যবসা করলেই ওদের হপ্তা দিতে হবে বলে ফতোয়া জারি করেছে। এদিন আমি দোকান বন্ধ করতেই যাচ্ছিলাম। সেইসময় দুষ্কৃতীরা বাইকে চড়ে এসে বলে চাঁদা দিতে হবে। জানতে চাই কিসের চাঁদা? ওরা বলে দোকান খুললে হপ্তা দিতে হবে। এরপর আমি দেব না বলতেই দোকান ও বাইক ভাঙচুর করা হয়। ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে। আমি ও দোকানে হাজির আমার ঘনিষ্ঠ লোকদের ব্যাপক মারধর করা হয়। এমনকী এক প্রতিবেশী মহিলা বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। পরে বাসিন্দারা আক্রান্তদের উদ্ধার করে সালার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল চত্বরেও দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব দেখায় বলে দাবি। সেখানেও দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা শনিবার সকালে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি মিছিল করেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সালারে সিন্ডিকেট রাজ চলছে। শুধু ব্যবসা বলে নয়। কেউ বাড়ি বানালে বা বিক্রি করলেও, অথবা জমি কেনাবেচা করলেও দিতে হচ্ছে তোলা। আর ওই সিন্ডিকেট রাজের পিছনে শাসকদল তৃণমূলের একপক্ষের মদত রয়েছে।
এবিষয়ে স্থানীয় ভরতপুর ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমানকে মোবাইলে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। যদিও তৃণমূল নেতা আনারুল হোসেন বলেন, ঘটনার পিছনে দুষ্কৃতীরা জড়িত। যেহেতু ওরা প্রকাশ্যে কোন দল করে না। তাই এটাকে শাসকদল মদতপুষ্ট বলা ঠিক হবে না। তবে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে সালারের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বাসিন্দারা আরও জানান, কয়েকমাস আগেও এই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। সালারের হিন্দুপাড়া এলাকায় আরও এক ব্যবসায়ী দুষ্কৃতীদের তোলা না দেওয়ায় দোকানও ভাঙচুর ও তাঁকে মারধর করা হয়।
ঘটনায় তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, কেউ যদি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, পুলিস তার ব্যবস্থা নেবে। তৃণমূল কংগ্রেস এসব একদম বরদাস্ত করবে না।
এদিকে ঘটনার পর শনিবার প্রচুর পুলিস কর্মী সহ কান্দি এসডিপিও শাশ্রেক আম্বারদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেন। সালার হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও দেখা হয়। এসডিপিও জানান, পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ