পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: ‘পুরুলিয়ার গরিব মানুষের মুখে একদিনের জন্য হাসি ফোটাতে চাই। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে মুক্তহস্তে দান করুন!’-সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এমন বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে। পুরুলিয়া জেলার দারিদ্র্যকে ‘পুঁজি’ করে মানুষের থেকে টাকা তুলছে কিছু ভুঁইফোঁড় ‘এনজিও’। গরিবদের খাওয়ানো, শীতবস্ত্র বিলির নামে টাকা তুলে তারা আত্মসাৎ করছে। বিষয়টি নজরে আসায় পুলিসও সতর্ক হয়েছে।
Advertisement
পুরলিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ২০শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষ আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত। নীতি আয়োগের রিপোর্টে পুরুলিয়া রাজ্যের দরিদ্রতম জেলা। তবে এখন রাজ্য সরকারের নানা জনমুখী প্রকল্পের হাত ধরে এখানকার মানুষের দারিদ্র্যের বোঝা অনেকটাই লাঘব হয়েছে। তবু ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কিছু অসাধু ‘এনজিও’ পুরুলিয়ার এই দারিদ্র্য দেখিয়েই বহু মানুষের কাছে টাকা তুলছে।
প্রথমে কোনও আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম কিংবা স্কুলে এসে বাচ্চাদের একদিনের জন্য খাইয়ে ছবি তোলা হচ্ছে। তারপর সেই ছবি সামনে রেখেই প্রচার চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা দারিদ্র্য, অনাহারের ছবি দেখে বহু মানুষেরই মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অনেকের পক্ষেই সশরীরে হাজির হয়ে সেই সমস্ত হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। তাই তাঁরা তেমন চিন্তাভাবনা না করেই ওই সমস্ত সংস্থাকে মুক্তহস্তে দান করেন। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হলেও তার সিকিভাগও দুঃস্থ মানুষের হাতে পৌঁছয় না। সেই টাকা খরচের কোনও হিসেবও দেওয়া হয় না।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, এই ধরনের ভুঁইফোঁড় সংস্থার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে মনে হবে এরা একবেলা না খাওয়ালে মানুষ খেতে পাবেন না। এমনই এক সংস্থার স্বরূপ ধরে ফেলেছিলেন জেলার একটি থানার দুঁদে পুলিস আধিকারিক। সেই আধিকারিক বলেন, ওরা শবর অধ্যুষিত গ্রামের একটি স্কুলে বাচ্চাদের খাওয়ানোর নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় টাকা তুলছিল। আমরা তাতে আপত্তি জানাই। স্পষ্ট জানিয়ে দিই, স্কুলের নাম ব্যবহার করলে যে টাকা তোলা হচ্ছে, তার হিসেব দিতে হবে। যে অ্যাকাউন্টে টাকা তোলা হচ্ছে, তা যাতে আমাদেরও নজরে থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু তারপর থেকে সেই এনজিও আর দেখাই করেনি!
তবে বহু এনজিও পুরুলিয়ার জন্য প্রকৃতই কাজ করে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী পুরুলিয়ায় থেকে মানুষের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেন। বাল্যবিবাহ রোধ, স্কুলছুট বাচ্চাদের ফের বিদ্যালয়মুখী করায় তাঁদের অবদান রয়েছে। ভুঁইফোঁড় সংস্থার কারণে তাঁরাও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে কাজ চালাতে সমস্যায় পড়ছেন।
প্রথমে কোনও আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম কিংবা স্কুলে এসে বাচ্চাদের একদিনের জন্য খাইয়ে ছবি তোলা হচ্ছে। তারপর সেই ছবি সামনে রেখেই প্রচার চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা দারিদ্র্য, অনাহারের ছবি দেখে বহু মানুষেরই মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অনেকের পক্ষেই সশরীরে হাজির হয়ে সেই সমস্ত হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। তাই তাঁরা তেমন চিন্তাভাবনা না করেই ওই সমস্ত সংস্থাকে মুক্তহস্তে দান করেন। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হলেও তার সিকিভাগও দুঃস্থ মানুষের হাতে পৌঁছয় না। সেই টাকা খরচের কোনও হিসেবও দেওয়া হয় না।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, এই ধরনের ভুঁইফোঁড় সংস্থার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে মনে হবে এরা একবেলা না খাওয়ালে মানুষ খেতে পাবেন না। এমনই এক সংস্থার স্বরূপ ধরে ফেলেছিলেন জেলার একটি থানার দুঁদে পুলিস আধিকারিক। সেই আধিকারিক বলেন, ওরা শবর অধ্যুষিত গ্রামের একটি স্কুলে বাচ্চাদের খাওয়ানোর নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় টাকা তুলছিল। আমরা তাতে আপত্তি জানাই। স্পষ্ট জানিয়ে দিই, স্কুলের নাম ব্যবহার করলে যে টাকা তোলা হচ্ছে, তার হিসেব দিতে হবে। যে অ্যাকাউন্টে টাকা তোলা হচ্ছে, তা যাতে আমাদেরও নজরে থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু তারপর থেকে সেই এনজিও আর দেখাই করেনি!
তবে বহু এনজিও পুরুলিয়ার জন্য প্রকৃতই কাজ করে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী পুরুলিয়ায় থেকে মানুষের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেন। বাল্যবিবাহ রোধ, স্কুলছুট বাচ্চাদের ফের বিদ্যালয়মুখী করায় তাঁদের অবদান রয়েছে। ভুঁইফোঁড় সংস্থার কারণে তাঁরাও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে কাজ চালাতে সমস্যায় পড়ছেন।



