সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ৫০ বছর ধরে পতিত জমিতে ৫ লক্ষের বেশি গাছ লাগিয়ে বিশাল অরণ্য তৈরি করেছিলেন গাছপাগল রাধেশ্যাম। সন্তান স্নেহে বড় করে তুলেছিলেন গাছগুলি। পাণ্ডবেশ্বর থানা এলাকায় তাঁর লাগানো সেই গাছ জমির মালিকরা কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। অর্জুন থেকে ইউক্যালিপটাস কাটতে দেখে দিশেহারা বৃদ্ধ রাধেশ্যাম গড়াই। পঞ্চায়েতে জানালেও কোনও সদুত্তর মিলছে না বলে অভিযোগ। বনদপ্তরের কাছেও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই থানা এলাকার জামুড়িয়া ব্লকের শ্যামলা গ্রাম পঞ্চায়েতের আলিনগর গ্রামের বাসিন্দা রাধেশ্যামবাবুর বয়স ৮০ বছর। স্ত্রী, দুই ছেলে ও বউমাদের নিয়ে তাঁর সংসার। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। রাধেশ্যামবাবু প্রায় ১৬ বছর বয়স থেকে গাছ লাগানো শুরু করেন। এলাকার উঁচুনিচু, ঢালু পতিত জমিতে গাছ লাগাতেন। ওই সমস্ত অনুর্বর জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। প্রকৃতিকে বাঁচাতে খাস জমি থেকে মালিকানাধীন ফাঁকা জমি পেলেই গাছ লাগিয়ে দিতেন। খনি অঞ্চলে জলের টানে ওই সমস্ত জমিতে চাষাবাদ হয় না। এলাকায় অরণ্য গড়ে বায়ুদূষণ রোধ করা সহ জীবজন্তুর খাদ্য ও আশ্রয় সহ জীবকুলের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। রাধেশ্যামবাবু এলাকায় ‘গাছপাগল’ নামে পরিচিত। অভাবের সংসারকে একপ্রকার পরিত্যাগ করে কেবল গাছই লাগিয়েছেন একরের পর একর পতিত জমিতে। তাঁর অভিযোগ, ওই অরণ্য থেকে গাছ কেটে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করছেন জমির মালিকরা। তিনি ইতিমধ্যেই অরণ্য ধংস রুখতে পঞ্চায়েত থেকে বনদপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন। পঞ্চায়েত ও বনদপ্তরের রূপনারায়ণপুর রেঞ্জ অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রাধেশ্যামবাবু বলেন, নিমসা, চিচুড়িয়া ও ভুড়ি মৌজায় কয়েক হাজার একর পতিত জমি ছিল। বিস্তীর্ণ ফাঁকা ওই জমিগুলি খাঁ খাঁ করত। সেই সময়ে আমি ওই জমিতে নিজের চারটি গোরুকে চরাতে যেতাম। সেই সময়ে বৃক্ষরোপণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আশ্বাসবাণীতে আমি অনুপ্রাণিত হই। শুনেছিলাম প্রকৃতিকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে কেউ হাজার হাজার বৃক্ষরোপণ করলে তাঁকে বিমানে করে নিয়ে গিয়ে সম্মানিত ও অর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে। সেই থেকে আমি পতিত জমিতে গাছ লাগানো শুরু করি। গাছ লাগানোর জন্য কিছু জমির মালিক আমার সঙ্গে লিখিতভাবে চুক্তিও করেন। আবার কেউ জমি দখল করে নেওয়ার মতো অপবাদও দেন। লোকে পাগল বলতেন। আমি সমস্ত কিছু উপেক্ষা করেই আজ প্রায় ২০০০ একর জমিতে অরণ্য গড়েছি। নিজেই বাড়িতে হাজার হাজার গাছের চারা তৈরি করেছি অরণ্য গড়তে। কত অক্সিজেন দিচ্ছে আজ গাছগুলি। কত জীবজন্তুর আশ্রয় হয়ে উঠেছে। আজ জমির কিছু মালিক ওই অরণ্য থেকে গাছ কেটে বিক্রি করছে। আমি যেন সন্তানহারা হয়ে যাচ্ছি। এই কয়েকদিনে প্রায় ৬ হাজার গাছ কাটা হয়েছে। পঞ্চায়েত ও বনদপ্তরকে জানিয়েছি। প্রাণ থাকতে আমি অরণ্য ধংস দেখতে পারব না। রাধেশ্যামবাবুর ছেলে সুকুমার গড়াই বলেন, বাবা সারা জীবন গাছের পেছনে সময় দিয়ে গেল। আমরা খেতে পাইনি। পড়াশোনার খরচ জোটেনি। বাড়িতে চারটি গোরু ছিল। বাবা ওই গোরুগুলি চরাত আর গাছ লাগাত। একসময় মা সহ আমরাও বাবাকে গাছ লাগাতে সহযোগিতা করেছি। অনেক সম্মানও পেয়েছে বাবা। আজ তো ওই গাছগুলির ওপর কোনও অধিকার বাবার নেই। কষ্ট হয় আমাদেরও।
গাছ কাটায় অভিযুক্ত এক জমির মালিক হীরালাল মণ্ডলের ভাই সদানন্দ বলেন, গাছ নিয়ে রাধেশ্যামবাবু মামলা করেছিলেন ২০১২ সালে। তিনি মামলায় হেরে গিয়েছেন। আবার গাছের দাবি করছেন। আমরা আইন মেনেই গাছ কাটছি।
পঞ্চায়েত প্রধান অসীত মণ্ডল বলেন, রাধেশ্যামবাবুর অভিযোগ পাওয়া মাত্র দুই পক্ষকে ডেকেছিলাম। অভিযোগ খতিয়ে দেখেছি, জমির মালিক বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে গাছ কাটছেন। জামুড়িয়া ব্লকের বিডিও অরুণালোক ঘোষ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। দুর্গাপুর বনদপ্তরের ডিএফও অনুপম খান বলেন, একটি জমিতে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অপর একটি জমিতে গাছ কাটার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। রাধেশ্যামবাবুকে আমরা আগামী দিনে সম্মানিত করব।
রাধেশ্যামবাবু বলেন, নিমসা, চিচুড়িয়া ও ভুড়ি মৌজায় কয়েক হাজার একর পতিত জমি ছিল। বিস্তীর্ণ ফাঁকা ওই জমিগুলি খাঁ খাঁ করত। সেই সময়ে আমি ওই জমিতে নিজের চারটি গোরুকে চরাতে যেতাম। সেই সময়ে বৃক্ষরোপণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আশ্বাসবাণীতে আমি অনুপ্রাণিত হই। শুনেছিলাম প্রকৃতিকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে কেউ হাজার হাজার বৃক্ষরোপণ করলে তাঁকে বিমানে করে নিয়ে গিয়ে সম্মানিত ও অর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে। সেই থেকে আমি পতিত জমিতে গাছ লাগানো শুরু করি। গাছ লাগানোর জন্য কিছু জমির মালিক আমার সঙ্গে লিখিতভাবে চুক্তিও করেন। আবার কেউ জমি দখল করে নেওয়ার মতো অপবাদও দেন। লোকে পাগল বলতেন। আমি সমস্ত কিছু উপেক্ষা করেই আজ প্রায় ২০০০ একর জমিতে অরণ্য গড়েছি। নিজেই বাড়িতে হাজার হাজার গাছের চারা তৈরি করেছি অরণ্য গড়তে। কত অক্সিজেন দিচ্ছে আজ গাছগুলি। কত জীবজন্তুর আশ্রয় হয়ে উঠেছে। আজ জমির কিছু মালিক ওই অরণ্য থেকে গাছ কেটে বিক্রি করছে। আমি যেন সন্তানহারা হয়ে যাচ্ছি। এই কয়েকদিনে প্রায় ৬ হাজার গাছ কাটা হয়েছে। পঞ্চায়েত ও বনদপ্তরকে জানিয়েছি। প্রাণ থাকতে আমি অরণ্য ধংস দেখতে পারব না। রাধেশ্যামবাবুর ছেলে সুকুমার গড়াই বলেন, বাবা সারা জীবন গাছের পেছনে সময় দিয়ে গেল। আমরা খেতে পাইনি। পড়াশোনার খরচ জোটেনি। বাড়িতে চারটি গোরু ছিল। বাবা ওই গোরুগুলি চরাত আর গাছ লাগাত। একসময় মা সহ আমরাও বাবাকে গাছ লাগাতে সহযোগিতা করেছি। অনেক সম্মানও পেয়েছে বাবা। আজ তো ওই গাছগুলির ওপর কোনও অধিকার বাবার নেই। কষ্ট হয় আমাদেরও।
গাছ কাটায় অভিযুক্ত এক জমির মালিক হীরালাল মণ্ডলের ভাই সদানন্দ বলেন, গাছ নিয়ে রাধেশ্যামবাবু মামলা করেছিলেন ২০১২ সালে। তিনি মামলায় হেরে গিয়েছেন। আবার গাছের দাবি করছেন। আমরা আইন মেনেই গাছ কাটছি।
পঞ্চায়েত প্রধান অসীত মণ্ডল বলেন, রাধেশ্যামবাবুর অভিযোগ পাওয়া মাত্র দুই পক্ষকে ডেকেছিলাম। অভিযোগ খতিয়ে দেখেছি, জমির মালিক বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে গাছ কাটছেন। জামুড়িয়া ব্লকের বিডিও অরুণালোক ঘোষ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। দুর্গাপুর বনদপ্তরের ডিএফও অনুপম খান বলেন, একটি জমিতে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অপর একটি জমিতে গাছ কাটার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। রাধেশ্যামবাবুকে আমরা আগামী দিনে সম্মানিত করব।



