Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দস্যুরানি’দের ছবি প্রকাশ্যে এনে চমক দিল জেলা পুলিস

‘দস্যুরানি’দের ছবি প্রকাশ্যে এনে চমক দিল জেলা পুলিস
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শনিবার ছিল ভিড়িঙ্গি মা কালীর বাৎসরিক উৎসব। তিল ধারণের জায়গা ছিল না মন্দির চত্বরে। সেখানে ঢুকতেই রাধা, সরস্বতী, দেবকীদের বড় বড় ছবি নজরে আসে। না এরা কোনও দেবতা নয়, এরা হল কুখ্যাত ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের মহিলা সদস্য। যারা নিমেষে গলায় থাকা সোনার চেন কেটে নেয়। অতি সাধারণ মহিলার বেশে থাকা ১৮ ‘দস্যুরানি’র ছবি মন্দির চত্বরে টাঙিয়ে মানুষকে সচেতন করল পুলিস। পুলিসের স্পষ্ট বার্তা, এদের দেখা মাত্রই পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। পুলিসের এই পদক্ষেপ রীতিমতো শোরগোল পড়ে এলাকায়। মানুষ বাড়তি সতর্ক হয়ে যায়। জনবহুল স্থানে অপরাধীদের এভাবে প্রকাশ্যে এনে পুলিস চমক দেয় দুষ্কৃতীদের। পুলিসের এই ধাক্কায় মন্দির মুখো হয়নি দস্যুরানিরা। যারজেরে পুজো কাটল নির্বিঘ্নেই। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর ধরেই শিল্পাঞ্চলে সক্রিয় ব্যান্ডেল গ্যাং। আসানসোল, দুর্গাপুরে সারাবছরই অনুষ্ঠান লেগে লাগে। হাজার হাজার মানুষের জনসমাগম হয়। বড়দিনের পার্টি বা বর্ষবরণের পার্টি নয়, এই চোরদের টার্গেট সাধারণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তদের নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সেখানে তারা সহজেই শাড়ি পরে গায়ে চাদর জড়িয়ে ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে থাকে বিশেষ ধরনের নেলকাটার। সন্তর্পণে তা শিকারের ঘাড়ের কাছে নিয়ে গিয়ে সোনার হার কেটে নিমেষে লুট করে। এই গ্যাংয়ের প্রথম কীর্তি ধরা পড়েছিল দু’বছর আগে এই মন্দিরের বাৎসরিক উৎসবে। সেবার তিনজনের হার লুট হয়। আগের বছর এই উৎসবের ১৫ দিন আগে ভিড়িঙ্গিতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। সেখানে চারজনের হার একই কায়দায় লুট করেছিল। কয়েক মাস আগে দুর্গাপুরের গোপালমাঠে বড় শিব মন্দিরে একই কায়দায় দু’জনের হার লুট করে তারা। পুলিসের জালে একাধিকবার ধরাও পড়েছে। তবে জামিন পেতেই ফের অপারেশন শুরু করে। এদের সবার বাড়ি ব্যান্ডেলে। সেখান থেকে ১৮ জনের মহিলা দলটি অপারেশনে আসে আসানসোল ও দুর্গাপুরে। সঙ্গে থাকে মাত্র একজন পুরুষ। পুলিস এই গ্যাংয়ের প্রতিটি সদস্যের ছবি সংগ্রহ করে নিয়েছে। এখন জনবহুল এলাকায় তাদের ছবি সাঁটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার প্রথম প্রয়োগ হল ভিড়িঙ্গি মন্দিরে। প্রথম প্রয়োগেই সাফল্য। পুলিস ও মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এবার সোনার চেন বা মোবাইল কোনও কিছুই চুরি যায়নি। ভক্তরা নিশ্চিন্তে পুজো দেখেছেন। 
দুর্গাপুরের এসিপি সুবীর রায় বলেন, ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে থাকা এই গ্যাংটি বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় অপারেশন চালাচ্ছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করেছি। মানুষকে তাদের নিয়ে সচেতন করা হয়েছিল। আমাদের এই প্রয়োগ সফল হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সম্পর্কিত সংবাদ