নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ‘জলদি বিশ পেটি হামকো ভেজ দিজিয়ে। কাল আপকা লাস্ট টাইম হ্যায়। নেহি তো আপকো অর আপকে ফ্যামিলিকো ঠোক দেঙ্গে।’ ঠিক যেন হিন্দি সিনেমার সংলাপ। যেমন বিভিন্ন মাফিয়া মুভিতে দেখা যায়। শুক্রবার সকালে ঠিক এই ভাষাতেই হুমকি ফোন আসে ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর কাছে। যা নিয়ে আপাতত তোলপাড় গোটা জেলা। পুলিস মোথাবাড়ি থেকে দু’জনকে আটক করেছে। ‘বিশ পেটি’ মানে ২০ লক্ষ টাকা। আর ‘ডি কোম্পানি’ মানে কুখ্যাত মাফিয়া দাউদ ইব্রাহিমের গ্যাং। তৃণমূল নেতা বাবলা সরকারের খুনের পর এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ইংলিশবাজার থানায় অভিযোগ করেছেন কৃষ্ণেন্দু। মালদহের রাজনীতিতে দিনভর শোরগোলের পর পুর চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাদের মধ্যে কৃষ্ণেন্দু অন্যতম। ইংলিশবাজার শহরের কালীতলায় তাঁর বাড়ি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি পুরসভার কাউন্সিলার। তিনবারের পুর চেয়ারম্যান। ইংলিশবাজার বিধানসভা থেকেই নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যও হন। বাম জমানায় ১৭ বার তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই সময়ও তিনি কিছু হুমকি ফোন পেয়েছিলেন। তারপর এই প্রথম। স্বামীকে হুমকির পর আতঙ্কে তাঁর স্ত্রী ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কাকলি চৌধুরীও। তাঁর মন্তব্য, বাবলাদার মৃত্যুতে আমাদের শক্ত খুঁটি চলে গিয়েছে। এবার যদি কৃষ্ণেন্দুকে সরিয়ে দিতে পারে, তাহলে বিরোধী দল লাভবান হবে। শুক্রবার সকালেই কৃষ্ণেন্দুর কাছে হুমকি ফোন আসে। তিনি বলেন, খামার বাড়িতে একটি শিবের মন্দির তৈরি হচ্ছে। শিবলিঙ্গ এবং নন্দীর মূর্তি গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে যাচ্ছিলাম। ১০ টা ৪০ মিনিটে ফোন ধরতেই জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘কিষাণ বোল রহে হ্যায়’? কে ফোন করছেন জানতে চাইলে জবাব আসে , ‘হাম প্রদীপ বোল রহে হ্যায় ডি কোম্পানিসে’। কেন সে ফোন করেছে জিজ্ঞাসা করলে হুমকির সুরে জবাব আসে, ‘জলদি বিশ পেটি হামকো ভেজ দিজিয়ে। কাল আপকা লাস্ট টাইম হ্যায়। নেহি তো আপকো অর আপকে ফ্যামিলিকো ঠোক দেঙ্গে’।
Advertisement
কিন্তু কোথায়, কখন ও কীভাবে টাকা পৌঁছতে হবে, সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি বলে জানান কৃষ্ণেন্দু। যে নম্বর থেকে হুমকি ফোন ও এসএমএস এসেছিল সেটির টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। কৃষ্ণেন্দু জানান, পরে মোবাইল ঘেঁটে দেখি বুধ ও বৃহস্পতিবার একই হুমকি দিয়ে দু’টি মেসেজও করা হয়েছিল।



