তামিলনাড়ুর কাল্লাকুরুচি এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে মাত্র একটা ফোন। তাতেই হাজির ‘ড্রোন দিদি’। গোটা খেতে সার দেওয়া, কীটনাশক ছড়ানো ও জল দেওয়ার কাজ ড্রোনের মাধ্যমে নিমেষে সারছেন তিনি। তামিলনাড়ুর কন্যে নন্দিনী সুগুমার। ২৭ বছর বয়সি নন্দিনী তামিলনাড়ুর ‘নমো ড্রোন দিদি’ কেন্দ্রীয় প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অঙ্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বরাবরই ড্রোন নিয়ে ছিল তাঁর আগ্রহ। তাই পড়াশোনার পর কেন্দ্রের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ড্রোন প্রকল্পের অধীনে নাম লেখান। সেখান থেকেই ড্রোন পাইলট হওয়ার কাজের জন্য নির্বাচিত হন তিনি। তিনিই ওই এলাকার প্রথম ব্যাচের ছাত্রী, যিনি এই প্রশিক্ষণ শেষে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকেই বিনামূল্যে পেয়েছেন ড্রোন। তা দিয়ে চাষের কাজে কৃষকদের সহযোগিতা শুরু করেছেন নন্দিনী। মহিলাদের স্বনির্ভর করতে তাঁদের হাতে ড্রোন তুলে দিয়ে ও তাঁদের ড্রোন চালানো শিখিয়ে খেতের কাজে লাগানোর কথা ভাবা হয় ড্রোন দিদি যোজনা ২০২৪-এ। নন্দিনীর মতো মেয়েরা সেই প্রশিক্ষণই কাজে লাগাচ্ছেন। সম্প্রতি দেবাপান্ডালাম এলাকায় এক একর বিস্তৃত আখের খেতে মাত্র সাত মিনিট সময়ের মধ্যে সার দেওয়ার কাজ সারেন নন্দিনী। এই প্রসঙ্গে বললেন, ‘এই কাজটা করতে পেরে আমি নিজেও খুব আনন্দিত। আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর। সেখানে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে জুড়ে কৃষকদের জন্য কিছু করতে পারলে বড় ভালো লাগে। মনে হয়, দেশেরই কোনও কাজ করতে পারছি।’ প্রতি একরে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন করেন নন্দিনী। এক এক দিনে নানা জায়গা থেকে ডাক আসে। নন্দিনীর মতো এমন অনেক কিশোরী ও মহিলাই এগিয়ে আসছেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে। তবে একই দিনে নানা জায়গা থেকে ডাক এলে, জল, সার, কীটনাশক-সহ ড্রোন বহন করতে ও এদিক ওদিক নিয়ে যেতে লোকবল ও অর্থবলের প্রয়োজন হয়। তবে রোজগার আরও বাড়লে সেসব খুঁটিনাটি সমস্যা সবই জয় করা সম্ভব বলে মত নন্দিনীদের।



