Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দিদিকে বলো’তে ফোন করতেই ফর্ম ফিলআপ, পরীক্ষায় বসতে পারবেন শিউলি

‘দিদিকে বলো’তে ফোন করতেই ফর্ম ফিলআপ, পরীক্ষায় বসতে পারবেন শিউলি
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ১০নম্বরের ইন্টারন্যাল পরীক্ষায় বসতে পারেননি। সেই কারণে পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ করতে দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। দু’দিন ধরে চোখের জল নিয়ে কলেজের অফিসের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন।  অধ্যক্ষার চেম্বারের সামনে ধর্নায় বসেও সুরাহা মেলেনি। অবশেষে ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করায় কলেজ কর্তৃপক্ষ চাপে পড়ে বিষ্ণুপুরের রামানন্দ কলেজের ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী শিউলি তন্তুবায়কে ফর্ম ফিলআপ করার সুযোগ দেয়। ওই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
Advertisement
বিষ্ণুপুর শহরের সেনহাটি কলোনির বাসিন্দা শিউলি। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাবা তাঁদের সঙ্গে থাকেন না। মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান। শিউলির ভাই শুভ তন্তুবায় এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছেন মা সুষমা তন্তুবায়। কিন্তু, মেয়ের শ্বাসকষ্টের সমস্যা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও সারছিল না। বাড়াবাড়ি হওয়ায় ভেলোরে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই সময়েই কলেজের ১০নম্বরের একটি ইন্টারন্যাল পরীক্ষায় মেয়ে বসতে পারেননি। সেই কারণে তাঁকে পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ করতে না দেওয়ায় স্বপ্ন ভাঙতে বসেছে দেখে সুষমাদেবীও অধ্যক্ষার কাছে কান্নাকাটি করেছেন। শুক্রবার ছিল ফর্ম ফিলআপের শেষ দিন। তাই বৃহস্পতিবার থেকেই শিউলি কলেজের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন। পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে কান্নাকাটি করেছেন। অধ্যক্ষার চেম্বারের সামনে ধর্নায় বসেছেন। তাতেও সুরাহা না পাওয়ায় ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করেন। তারপরেই কলেজ কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে স্পেশাল অনুমতি নিয়ে শিউলিকে ফর্ম ফিলআপ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তারপরেই শিউলি স্বস্তি পান। 
রামানন্দ কলেজের অধ্যক্ষা স্বপ্না ঘোড়ই বলেন, আমি কলেজের কাজে বিশ্ববিদ্যালয় গিয়েছিলাম। ছাত্রীর আর্জিতে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপককে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলাম। তিনি তাতে গুরুত্ব দেননি। ছাত্রীটির একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে আমি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে স্পেশাল অনুমতি নিয়েছি। তারপরেই ছাত্রীকে ফর্ম ফিলআপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। 
শিউলি বলেন, আমি সমস্ত সেমেস্টারের পরীক্ষা দিয়েছি। চিকিৎসার কারণে কেবলমাত্র একটি ১০নম্বরের ইন্টারন্যাল পরীক্ষায় বসতে পারিনি। ডাক্তারি কাগজপত্র দেখিয়েছি। তা সত্ত্বেও আমার কোনও কথা শোনা হয়নি। আমার মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে আমাকে কলেজে পড়াচ্ছেন। একটা বছর নষ্ট হয়ে গেলে বাড়তি খরচ তিনি জোগাতে পারবেন না।  দু’দিন ধরে কলেজের দরজায় দরজায় ঘুরেও কোনও আশা দেখতে না পেয়ে আমি কলেজ থেকেই ‘দিদিকে বলো’ তে ফোন করেছিলাম। আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপরেই আমাকে ফর্ম ফিলআপ করার সুযোগ দেওয়া হয়। পরীক্ষায় বসতে পারব ভেবে মনে স্বস্তি পেয়েছি।
সম্পর্কিত সংবাদ