নিজস্ব প্রতিনিধি, অণ্ডাল: ‘বিশ্রাম লোকালে’র পরিষেবায় অতিষ্ঠ রেলযাত্রীরা। ০৩৫৪৭ বর্ধমান-আসানসোল মেমু প্যাসেঞ্জারের ধারাবাহিকভাবে দেরি করায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। বহু ক্ষেত্রেই নিত্যযাত্রীদের পারিবারিক অশান্তির ‘ভিলেন’ এই ‘বিশ্রাম’ লোকাল। ট্রেনটি দুর্গাপুর স্টেশন পর্যন্ত ঠিকঠাক যাচ্ছে। এরপর ওই স্টেশনে কোনওদিন আধ ঘণ্টা, কোনও দিন ৪০ মিনিট আবার কখনও তার থেকে বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকছে। ট্রেনের অপেক্ষায় অণ্ডাল, রানিগঞ্জ স্টেশনে তীর্থের কাকের মতো যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকছেন। তাঁদের চোখের সামনে দিয়ে একের পর এক এক্সপ্রেস ট্রেন চলে যাচ্ছে। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত লোকাল ট্রেন আর আসে না। অভিযোগ, এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিকে লাইন ছেড়ে দিতেই এই ব্যবস্থা। প্রশ্ন উঠছে, কেন স্লো লাইনে মেমু ট্রেনটি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় না। ট্রেনের ধারাবাহিক লেট নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই রেলের। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, যাত্রীরা নির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ জানালে তা বিবেচনা করা হবে।
Advertisement
সিউড়ি, সাঁইথিয়া, দুবরাজপুর রেলপথে অণ্ডাল, রানিগঞ্জ, আসানসোল যাতায়াত করেন বহু মানুষ। কাজ সেরে বিকেলে ফেরার পথে তাঁরা অনেকেই ভরসা করেন ০৩৫৮৪ সাঁইথিয়া অণ্ডাল মেমু স্পেশালের উপর। ট্রেনটি বিকেল ৪টে ৪০মিনিটে সাঁইথিয়ায় আসে। ৫টার সময়ে সিউড়িতে সেই ট্রেনে চাপতে যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তাঁদের অনেকেই স্কুল, অফিসে কর্মরত, বহু পড়ুয়াও থাকেন। ট্রেনটি অণ্ডাল জংশন স্টেশনে আসার সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে। সেই ট্রেনটিই আবার অণ্ডাল থেকে বর্ধমানের উদ্দেশে রওনা হয়ে যায় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে। তাই এই ট্রেন ধরেই অনেকে দুর্গাপুর, বর্ধমানে যান।
সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটেই বর্ধমান-আসানসোল মেমু ট্রেনটি বর্ধমান থেকে আসানসোলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা। অনেক যাত্রী অপেক্ষা করেন রানিগঞ্জ, আসানসোল যাওয়ার জন্য। এখানেই বিপত্তি। একজন নতুন যাত্রী সিউড়ি থেকে আসানসোল ট্রেনে ফেরার পরিকল্পনার করায় তাঁর সহযাত্রীরা বলেন, ‘বিশ্রাম’ লোকালের গল্প উনি জানেন না। ট্রেনটি খাতায়-কলমে অণ্ডালে আসার কথা সন্ধে ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আসানসোল পৌঁছানোর কথা সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে। কিন্তু অণ্ডালেই আসে ৭টা ১০ ও ২০ মিনিটে। ভাগ্য ভালো থাকলে ট্রেনটি আসানসোলে রাত ৮টার মধ্যে ঢোকে। কোনও কোনও দিন সাড়ে ৮টা পেরিয়ে যায়।
অণ্ডাল স্টেশনে সেদিন সেই নতুন যাত্রী দেখেনে চোখের সামনে দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত, রাজধানী। উল্টো দিক দিয়ে ছুটে গেল বন্দে ভারতও। কিন্তু লোকাল ট্রেনের দেখা নেই। স্লো লাইনে মালগাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সিউড়ি খাদ্যদপ্তরে কাজ করেন পার্থ বিশ্বাস। তিনি বলেন, প্রতিদিন এই দু’টি ট্রেনেই যাতায়াত করি। বাড়িতে অসুস্থ মা রয়েছেন। সাধারণভাবে দেখলে মনে হবে, এক ঘণ্টা লেট হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা সকাল হলেই কর্মক্ষেত্রে বেরিয়ে যান তাঁদের কাছে এই এক ঘণ্টার দাম অনেক। অন্য এক নিত্যযাত্রী বলেন, বহু যাত্রী বাধ্য হয়ে অণ্ডালগামী মেমু ট্রেন থেকে কাজোড়া গ্রাম স্টেশনে নেমে টোটো ধরে কাজোড়া মোড়ে আসেন। সেখান থেকে জাতীয় সড়কে উঠে বাস ধরার চেষ্টা করেন, যাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারেন। কিন্তু বাড়ির লোকজন প্রতিদিন ট্রেন লেটের কথা বিশ্বাস করতে চায় না। এজন্য বহু পরিবারে অশান্তি হয়।
সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটেই বর্ধমান-আসানসোল মেমু ট্রেনটি বর্ধমান থেকে আসানসোলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা। অনেক যাত্রী অপেক্ষা করেন রানিগঞ্জ, আসানসোল যাওয়ার জন্য। এখানেই বিপত্তি। একজন নতুন যাত্রী সিউড়ি থেকে আসানসোল ট্রেনে ফেরার পরিকল্পনার করায় তাঁর সহযাত্রীরা বলেন, ‘বিশ্রাম’ লোকালের গল্প উনি জানেন না। ট্রেনটি খাতায়-কলমে অণ্ডালে আসার কথা সন্ধে ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আসানসোল পৌঁছানোর কথা সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে। কিন্তু অণ্ডালেই আসে ৭টা ১০ ও ২০ মিনিটে। ভাগ্য ভালো থাকলে ট্রেনটি আসানসোলে রাত ৮টার মধ্যে ঢোকে। কোনও কোনও দিন সাড়ে ৮টা পেরিয়ে যায়।
অণ্ডাল স্টেশনে সেদিন সেই নতুন যাত্রী দেখেনে চোখের সামনে দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত, রাজধানী। উল্টো দিক দিয়ে ছুটে গেল বন্দে ভারতও। কিন্তু লোকাল ট্রেনের দেখা নেই। স্লো লাইনে মালগাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সিউড়ি খাদ্যদপ্তরে কাজ করেন পার্থ বিশ্বাস। তিনি বলেন, প্রতিদিন এই দু’টি ট্রেনেই যাতায়াত করি। বাড়িতে অসুস্থ মা রয়েছেন। সাধারণভাবে দেখলে মনে হবে, এক ঘণ্টা লেট হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা সকাল হলেই কর্মক্ষেত্রে বেরিয়ে যান তাঁদের কাছে এই এক ঘণ্টার দাম অনেক। অন্য এক নিত্যযাত্রী বলেন, বহু যাত্রী বাধ্য হয়ে অণ্ডালগামী মেমু ট্রেন থেকে কাজোড়া গ্রাম স্টেশনে নেমে টোটো ধরে কাজোড়া মোড়ে আসেন। সেখান থেকে জাতীয় সড়কে উঠে বাস ধরার চেষ্টা করেন, যাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারেন। কিন্তু বাড়ির লোকজন প্রতিদিন ট্রেন লেটের কথা বিশ্বাস করতে চায় না। এজন্য বহু পরিবারে অশান্তি হয়।



