Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বাংলার বাড়ি’ তৈরিতে সিন্ডিকেটের জুলুম বরদাস্ত নয়, কঠোর প্রশাসন

‘বাংলার বাড়ি’ তৈরিতে সিন্ডিকেটের জুলুম বরদাস্ত নয়, কঠোর প্রশাসন
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘বাংলার বাড়ি’র ঘর তৈরির জন্য কোনও সিন্ডিকেট জোর করে উপভোক্তাদের ইমারতি সামগ্রী দিতে পারবে না। জোরজুলম করলেই থানায় অভিযোগ করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিন্ডিকেটগুলি প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করে। তারাও কোনওরকম জলুমবাজি করার চেষ্টা করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, উপভোক্তারা নিজেদের পছন্দের জায়গা থেকে ইমারতি সামগ্রী কিনতে পারবেন। তারা কারও কাছে ইট, পাথর বা বালি নিতে বাধ্য নয়।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রায় ৭১হাজার পরিবার এই প্রকল্পে বাড়ি পেতে চলেছে। প্রতিটি ব্লকের আধিকারিকরা উপভোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে গাইডলাইন জানিয়ে এসেছেন। কাউকে এই প্রকল্পের জন্য টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সোমবার সন্দেশখালির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই বার্তা দিয়েছেন। তারপরও একশ্রেণির প্রতারক টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে। জেলা প্রশাসন সমস্ত অবৈধ বালির ঘাট বন্ধ করে রেখেছে। তার ফলে একশ্রেণির প্রভাবশালী বিপাকে পড়েছে। তারা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। কয়েকদিন আগে কয়েকজন উপভোক্তা ব্লক প্রশাসনের কাছে দাবি করেন, বালির দাম চড়া রয়েছে। তাঁরা তা কিনতে পারবেন না। পরে আধিকারিকরা তদন্ত করে দেখেন, তাঁরা কয়েকজন প্রভাবশালীর শেখানো বুলি আউড়েছেন। তাঁদের দিয়ে প্রভাবশালীরা প্রশাসনকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন তাতে ঝুঁকতে নারাজ। কোথাও কোনওভাবেই অবৈধ বালির ঘাট চালাতে দেওয়া যাবে না বলে প্রশাসন সাফ জানিয়েছে।এক আধিকারিক বলেন, সরকার বাড়ি তৈরির জন্য যে টাকা দিচ্ছে তা যথেষ্ট। নিজেদের জায়গায় সেই টাকায় ছোট বাড়ি তৈরি করা যেতেই পারে। সরকার প্রত্যেক পরিবারের মাথার উপর পাকা ছাদ দেওয়ার টার্গেট নিয়েছে। সেই টার্গেট পূরণ হচ্ছে। ইমারতি সামগ্রী সরবরাহ করার জন্য জেলার প্রতিটি ব্লকেই সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের কাছে থেকেই উপভোক্তারা আগে ইট, পাথর, বালি নিতে বাধ্য হতো। তা না হলে বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি করা হতো। কিন্তু বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নেই। সরকারি কর্মীরা তালিকা যাচাই করার পর তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাচ্ছে। কোন উপভোক্তার নাম তালিকায় থাকবে তা সরকারি কর্মীরা সমীক্ষার পর ঠিক করেছেন। নেতারা সুপারিশ করলেও তা মানা হয়নি। মেমারি-১, ভাতার সহ কয়েকটি ব্লকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের তালিকায় শাসকদলের ঘনিষ্ঠ অযোগ্যদের নাম ছিল। সেগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার বাড়ি তৈরি করার সময় যাতে জনপ্রতিনিধিরা হস্তক্ষেপ করতে না পারে, তারজন্য প্রশাসন কড়া নজর রাখছে।
সম্পর্কিত সংবাদ