Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ‘কমিশন’ চাওয়ার অভিযোগ এবার বিজেপি সদস্যার বিরুদ্ধে

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ‘কমিশন’ চাওয়ার অভিযোগ এবার বিজেপি সদস্যার বিরুদ্ধে
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে পাওয়া প্রথম কিস্তির টাকা থেকে কমিশন চাওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে। খানকুল-২ ব্লকের জগৎপুর পঞ্চায়েতের দক্ষিণ পাড়ার ওই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। উপভোক্তাদের বক্তব্যের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। উপভোক্তারা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্যা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। জগৎপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, লিখিতভাবে কোনও অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।
Advertisement
খানাকুল-২ বিডিও মধুমিতা ঘোষ বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। লিখিতভাবে অভিযোগ কিছু আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা উপভোক্তাদের জানিয়েছি, কাউকে কোনও টাকা দেবেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জগৎপুর দক্ষিণপাড়ায় একই পরিবারের পৃথক সদস্যদের নামে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। তাঁরা প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়েও গিয়েছেন। বছর ৬৫-র মাধব কোটাল বলেন, দিন কয়েক আগে পাকা বাড়ির টাকা ঢুকেছে। তার পরপরই পঞ্চায়েত সদস্যা তাঁর বাড়িতে আমাদের ডাকেন। রাত ৭টা নাগাদ যাই। আমি এক ছেলে ও দুই ভাইপো যাই। আমাদের ১০ হাজার টাকা করে দিতে বলে। 
মাধববাবু আরও বলেন, ১০ হাজার টাকা দিতে পারব না বললে দরাদরি হয়। পঞ্চায়েত সদস্যা শেষমেশ তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হবে বলে জানান। আমরা বিষয়টি পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। 
মাধববাবুর বউমা সুমি কোটাল বলেন, আমরাও আবাসের প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছি। আমাকে পঞ্চায়েত সদস্যা ফোন করে দেখা করার জন্য বলেন। কিন্তু আমি বাড়িতে না থাকায় যেতে পারিনি। পরে শ্বশুর, দেওরদের কাছে শুনলাম, আবাসের টাকা থেকে কমিশন চাওয়া হয়েছে। তাই আর দেখা করিনি। কিন্তু, দেখা করার জন্য তিনি চাপ দেন। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন না দিলে পরের কিস্তির টাকা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত সদস্যা অপর্ণা বর। তিনি বলেন, বিগত দিনে তৃণমূল এলাকার গরিব মানুষকে বাড়ি দেয়নি। আমরা দৌড়ঝাঁপ করে তার ব্যবস্থা করেছি। কমিশন চাওয়ার অভিযোগ একেবারে মিথ্যা। আমরাও গরিব। কিন্তু, আমাদের এরকম কোনও অভিপ্রায় নেই। তৃণমূলের রমেশ দলুই সহ আরও কয়েকজন নেতা চক্রান্ত করে আমাদের বদনাম করছেন। এই ধরনের ঘটনার কোনও প্রমাণও নেই। চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। জগৎপুরের তৃণমূল নেতা রমেশ দলুই বলেন, উপভোক্তরা পঞ্চায়েতে গিয়ে বলার পর বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার ভিডিও করেছি। চক্রান্ত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তদন্ত হলেই সব বেরিয়ে পড়বে। এখন বাঁচার জন্য উনি চক্রান্তের অভিযোগ তুলছেন। মানহানি মামলার হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, যদি এরকম কোনও ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে দল ব্যবস্থা নেবে। এই ধরনের অভিযোগ রেয়াত করা হবে না।
সম্পর্কিত সংবাদ