সংবাদদাতা, করিমপুর: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর মেলেনি রশিদ শেখের। অগত্যা চূড়ান্ত দারিদ্র ও অর্থাভাবে ধুঁকতে থাকা পরিবারটির পাশে দাঁড়ালেন প্রতিবেশীরা। চাঁদা তুলে রশিদ শেখের জন্য একটি ঘর বানিয়ে দেওয়া হল। করিমপুর ২ ব্লকের থানারপাড়ার মথুরাপুর গ্রামে বাস রশিদ শেখের। ছোট্ট একচিলতে ঘর পেয়ে খুশি রশিদের পরিবার। পাড়ার লোকজন জানান, রশিদ শেখের বয়স মাত্র ৩৪ বছর। দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। বছর ছয়েক আগে আচমকা দুর্ঘটনায় তাঁর পা ভেঙে যায়। তারপর থেকে তিনি সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী। সম্প্রতি শ্রবণ ক্ষমতাও হারিয়েছেন। কয়েক বছর চেষ্টা করেও মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। সংসারে আর রোজগারের লোকও নেই। পাটের বিনুনি বুনে কোনও রকমে স্বামী ও তিন ছেলেমেয়ের মুখে ভাত তুলে দেন রশিদের স্ত্রী সুস্মিতা বিবি। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ভাবনা’-র পরিচালক রেবাউল মণ্ডল বলেন, গরিব মানুষের মাথায় ছাদ দেওয়ার জন্যই রাজ্য সরকারের আবাস যোজনা প্রকল্প। সেই তালিকায় যদি এই ধরনের পরিবারগুলির নাম না থাকে তাহলে প্রকল্পের সার্থকতা কোথায় রইল। পাটকাঠির বেড়ার উপর টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরের বেড়ায় পচন ধরেছিল। ঘরের ভিতরে একটা ভাঙা নড়বড়ে চৌকি। ইটের উপর কোনও রকমে রাখা। ঝড়বৃষ্টি মধ্যেও এই ভাঙা ঘরেই বাস করতে হয়েছে পরিবারটিকে। সরকারি বাড়ি না পাওয়ায় প্রতিবেশীরা চাঁদা তুলে সম্প্রতি একটি ঘর তৈরি করে দিয়েছে রশিদকে। এখনও ঘরের অনেক কাজ বাকি। সুস্মিতা বিবি বলেন, বছর ছয়েক আগে রাস্তায় দুর্ঘটনায় স্বামী চলচ্ছক্তিহীন হয়ে যান এবং কাজের ক্ষমটা হারান। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে পড়াশোনা করানোর সাধ্য নেই। স্থানীয় লোকজন ও পঞ্চায়েত সদস্য সবই জানেন। সকলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। অনেক আশা করেছিলাম যে এবারের রাজ্য আবাস যোজনায় সরকারি ঘর মিলবে। কিন্তু ২০১৮ সালের তালিকায় আমাদের নাম না থাকায় এবারে কেউ সমীক্ষা করতেও আসেননি। প্রতিবেশী সামসুজ্জোহা বিশ্বাস জানান, গ্রামে এদের মতো দুঃস্থ অসহায় পরিবার আর নেই। অথচ এই পরিবারটাই সরকারি ঘর পেল না। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নতিডাঙা ১ পঞ্চায়েত সদস্য মেরিনা বিবি মণ্ডল বলেন, নতুন আবাস যোজনার তালিকায় রশিদ শেখের নাম না থাকায় তাঁর বাড়িতে সার্ভে হয়নি। তবে এইরকম দুঃস্থ পরিবারগুলি যাতে ঘর পায় পরবর্তী সময়ে সেই চেষ্টা করব। করিমপুর ২ বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, আমি ওঁদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরামর্শ মতো তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ফোন করেছিলেন। যাতে তাঁরা সরকারি ঘর পান সেই চেষ্টা চলছে।



