Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ভূতুড়ে’ অ্যাকাউন্ট খুলতে উত্তর দিনাজপুর ও মালদহের সিএসপিগুলিকে ব্যবহার প্রতারকদের

‘ভূতুড়ে’ অ্যাকাউন্ট খুলতে উত্তর দিনাজপুর ও মালদহের সিএসপিগুলিকে ব্যবহার প্রতারকদের
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘ভূতুড়ে’ অ্যাকাউন্ট খুলতে মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের সিএসপিগুলিকে কাজে লাগায় প্রতারকরা। সর্বত্র ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও এই কেন্দ্র রয়েছে। ট্যাব জালিয়াতির টাকা হস্তান্তরের জন্য সিএসপির এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারকরা। তারা গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে ভোটার, আধার এবং ছবি হাতিয়ে নেয়। ফর্মে স্বাক্ষর করানো হয়। অনেক এজেন্টকে গ্রামবাসীরা ভরসা করে। তাদের কথাতে তারা ভোটার বা আধার কার্ড দিয়ে দেয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রতারকরা টাকা পাঠায়। আবার এজেন্টরা সরাসরি কয়েকজন অ্যাকাউন্ট মালিকদের টাকার টোপ দেয়। তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দিলে ভাড়া দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। মালদহর বৈষ্ণবনগর থেকে পুলিস পিন্টু শেখ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। সে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে। দিনে ৩০০ টাকা আয় করে। তার নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেও সে তা খুব বেশি ব্যবহার করত না। এক এজেন্ট তাকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাতে সে রাজি হয়ে যায়। তার অ্যকাউন্টে প্রতারকরা কয়েক হাজার টাকা জমা করে। সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়। ওই যুবক ভাড়াও পেয়ে যায়। সেই সূত্রেই সে পুলিসের জালে জড়িয়ে যায়। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সরাসরি ব্যাঙ্ক গিয়ে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ নয়। তারজন্য অনেক বেশি কসরত করতে হয়। কিন্তু গ্রামের ঩সিএসপি থেকে অ্যাকাউন্ট খুলতে ততটা বেগ পেতে হয় না। ৫০০-র বেশি এরকম ভূতুড়ে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছ। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে তাদের প্রত্যেককেই জেরা করা হচ্ছে। অনেকেই এই বিষয়টিতে অন্ধকারে ছিল। তাদের মোবাইল নম্বর অ্যাকাউন্টে যোগ করা ছিল। টাকা জমা পড়ার মেসেজ পেয়েও অনেকে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি। তাদের অনেকেই পড়াশোনা জানে না। সিএসপির এক এজেন্ট তদন্তকারীদের জালে জড়িয়েছে। তার মতো আরও অনেকেই রয়েছে। বিহারের অ্যাকাউন্টগুলি খোলার পিছনেও সিএসপি এজেন্টদের হাত রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, টাকা হাতানোর প্রমাণ যাদের বিরুদ্ধে পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করা হবে।
জেলা পুলিসের আর এক আধিকারিক বলেন, প্রতিটি জেলায় প্রতারকদের আলাদা আলাদা গ্যাং কাজ করেছে। তাদের আরও কিছু পরিকল্পনা ছিল। পড়ুয়াদের জন্য বহু স্কলারশিপ চালু রয়েছে। সেসব টাকাও তারা হাতানোর চেষ্টা করে। ট্যাব কেলেঙ্কারির ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানে প্রথম অভিযোগ হয়। জেলা পুলিস তদন্তে নেমে মালদহ থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে অন্যান্য জেলা পুলিসও তদন্তে নামে। চক্রের আরও অনেকে অধরা রয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছে।
সম্পর্কিত সংবাদ