নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ২০২২ সালের পুর বোর্ড গঠন হওয়ার পর থেকেই প্রতি মাসে ২০হাজার টাকা করে ভাতা তুলেছিলেন পুরুলিয়া পুরসভার কাউন্সিলাররা। নিজেদের মধ্যে গোপন ‘আঁতাত’ করে সুখেই চলছিল। তবে, মাসখানেক আগে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে চিঠি পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুরকর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত ভাতা কাটছাঁট করে যা প্রাপ্য, তাই ধার্য করা হয়। কাউন্সিলারদের ভাতা ২০হাজার থেকে কমে হয় মাত্র১৫০০টাকা। তাতেই বেঁকে বসেন কাউন্সিলাররা। ফুঁসতে শুরু করেছেন ক্ষোভের আগুনে। সম্প্রতি এনিয়ে একটি বৈঠক হয় পুরসভায়। তাতে কাউন্সিলারদের হুঁশিয়ারি, ‘ঘুরপথে কীভাবে টাকা তুলতে হয় দেখে নেব।’ তবে শুধু হুঁশিয়ারি নয়, সম্প্রতি পুরসভায় ভাতা ছাড়াও ‘অতিরিক্ত’ টাকার বিলও জমা দিয়েছেন ১১জন কাউন্সিলার।
Advertisement
জানা গিয়েছে, নতুন পুরবোর্ড গঠনের পরই বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়, কাউন্সিলাররা মাসিক ২০হাজার, সিআইসিরা ২৪হাজার, ভাইস চেয়ারম্যান ৩০হাজার এবং চেয়ারম্যান ৩৬হাজার টাকা ‘ভাতা’ তুলবেন। তারপর থেকে এভাবেই চলে আসছিল। কিন্তু, মাসখানেক আগে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের চিঠিতে চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, সরকারি নির্দেশিকার তুলনায় পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সিআইসি সহ কাউন্সিলাররা অতিরিক্ত ভাতা নিচ্ছেন বলে নজরে এসেছে। এক্ষেত্রে ২০০৯সালের একটি নির্দেশিকারও উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে। সরকারি নির্দেশিকার তুলনায় অতিরিক্ত ভাতা নেওয়া হয়ে থাকলে তা দ্রুত পুরসভার ফান্ডে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে অতিরিক্ত ভাতা নেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়।
তাতেই চাপে পড়ে পুরসভা। পুরসভায় জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক হয়। অতিরিক্ত ‘ভাতা’ ছেঁটে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তাই দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিলাররা মাসিক ১৫০০টাকা, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলরা দু’হাজার, ভাইস চেয়ারম্যান সাড়ে তিন হাজার ও চেয়ারম্যান পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বৈঠক সূত্রের খবর, এতে অনেক কাউন্সিলারই বেঁকে বসেন। কয়েকজন তো বৈঠকেই হুঁশিয়ারি দেন, ১৫০০টাকা ভাতা মানে অপমান। ও টাকা নেব না। ঘুরপথে কীভাবে টাকা তুলতে হয় দেখে নেব। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেন পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি। তিনি বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৈঠক, যাতায়াত, ফোন খরচ, বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে ওয়ার্ড পরিচালনার জন্য কাউন্সিলারদের খরচ হয়। সেই টাকার বিল যদি জমা দেন, তাহলে সেই টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হয়। এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। বিগত বোর্ডগুলিও একইভাবে চলত।
যদিও পুরসভা সূত্রের খবর, এটাই ঘুরপথ! ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এখনও এরিয়া কমিটি, ওয়ার্ড কমিটি তৈরি হয়নি। কাউন্সিলারদের নিজস্ব অফিসও নেই। বহু কাউন্সিলারের ওয়ার্ডের সঙ্গে যোগাযোগই নেই। কিন্তু, এসব খরচ উল্লেখ করে ভাউচার জমা করছেন কাউন্সিলাররা। তাঁরা টাকাও পেয়েছেন। গত মাসেই চারজন কাউন্সিলার বাদে প্রত্যেকেই টাকা তুলেছেন। এমাসেও ১১জন কাউন্সিলার বিল জমা করেছেন। গড়ে ১৮হাজার টাকা করে বিল জমা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান বদলের জল্পনায় যে কাউন্সিলারদের নাম ভাসছে, বিল জমা করেছেন তাঁরাও। অর্থাৎ, যেভাবে চলছিল, সেভাবেই চলছে। পুরসভার কাউন্সিলার বিভাস দাস বলেন, ওয়ার্ড চালাতে যা খরচ হয়েছে, সেই বিলই জমা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কিছু জমা দেওয়া হয়নি।
তবে, অতিরিক্ত এই টাকা নিতে না চেয়ে আবার চেয়ারম্যানকে চিঠিও করেছেন পুরসভার কাউন্সিলার তথা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ ডাগা। তিনি বলেন, কে কী নিচ্ছে আমি বলতে পারব না। তবে আমি চেয়ারম্যানকে স্পষ্ট জানিয়েছি, সরকারি নির্ধারিত ভাতা ছাড়া আমি একটাকাও অতিরিক্ত নেব না। পুরকর্মীরা অনেক কম বেতন পান, প্রয়োজনে সেই টাকা পুরকর্মীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য খরচ করা হোক।
তাতেই চাপে পড়ে পুরসভা। পুরসভায় জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক হয়। অতিরিক্ত ‘ভাতা’ ছেঁটে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তাই দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিলাররা মাসিক ১৫০০টাকা, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলরা দু’হাজার, ভাইস চেয়ারম্যান সাড়ে তিন হাজার ও চেয়ারম্যান পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বৈঠক সূত্রের খবর, এতে অনেক কাউন্সিলারই বেঁকে বসেন। কয়েকজন তো বৈঠকেই হুঁশিয়ারি দেন, ১৫০০টাকা ভাতা মানে অপমান। ও টাকা নেব না। ঘুরপথে কীভাবে টাকা তুলতে হয় দেখে নেব। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেন পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি। তিনি বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৈঠক, যাতায়াত, ফোন খরচ, বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে ওয়ার্ড পরিচালনার জন্য কাউন্সিলারদের খরচ হয়। সেই টাকার বিল যদি জমা দেন, তাহলে সেই টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হয়। এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। বিগত বোর্ডগুলিও একইভাবে চলত।
যদিও পুরসভা সূত্রের খবর, এটাই ঘুরপথ! ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এখনও এরিয়া কমিটি, ওয়ার্ড কমিটি তৈরি হয়নি। কাউন্সিলারদের নিজস্ব অফিসও নেই। বহু কাউন্সিলারের ওয়ার্ডের সঙ্গে যোগাযোগই নেই। কিন্তু, এসব খরচ উল্লেখ করে ভাউচার জমা করছেন কাউন্সিলাররা। তাঁরা টাকাও পেয়েছেন। গত মাসেই চারজন কাউন্সিলার বাদে প্রত্যেকেই টাকা তুলেছেন। এমাসেও ১১জন কাউন্সিলার বিল জমা করেছেন। গড়ে ১৮হাজার টাকা করে বিল জমা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান বদলের জল্পনায় যে কাউন্সিলারদের নাম ভাসছে, বিল জমা করেছেন তাঁরাও। অর্থাৎ, যেভাবে চলছিল, সেভাবেই চলছে। পুরসভার কাউন্সিলার বিভাস দাস বলেন, ওয়ার্ড চালাতে যা খরচ হয়েছে, সেই বিলই জমা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কিছু জমা দেওয়া হয়নি।
তবে, অতিরিক্ত এই টাকা নিতে না চেয়ে আবার চেয়ারম্যানকে চিঠিও করেছেন পুরসভার কাউন্সিলার তথা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ ডাগা। তিনি বলেন, কে কী নিচ্ছে আমি বলতে পারব না। তবে আমি চেয়ারম্যানকে স্পষ্ট জানিয়েছি, সরকারি নির্ধারিত ভাতা ছাড়া আমি একটাকাও অতিরিক্ত নেব না। পুরকর্মীরা অনেক কম বেতন পান, প্রয়োজনে সেই টাকা পুরকর্মীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য খরচ করা হোক।



