Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বহরমপুর বিধানসভায় অধীর দাঁড়ালে জিতবেন’, জল্পনা উস্কে দিলেন হুমায়ুন

‘বহরমপুর বিধানসভায় অধীর দাঁড়ালে জিতবেন’, জল্পনা উস্কে দিলেন হুমায়ুন
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুর বিধানসভা আসনে কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীর হয়ে সওয়াল করলেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার অকপটে হুমায়ুন দাবি করেন, বহরমপুরে অধীর চৌধুরী যদি নিজে ভোটে দাঁড়ান তাহলে তিনি ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় জিতবেন। দলের প্রতীকে কিংবা নির্দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিতবেন। বাকি কোনও আসনে অধীর চৌধুরীর কোনও গুরুত্ব নেই, বিজেপিরও কোনও গুরুত্ব নেই। সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো বিস্ফোরক এই দাবি করলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। 
Advertisement
এদিন হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, জেলার ২২টি আসনের মধ্যে বিজেপি তিনটে আসনে একটু লড়াই দেবে, মুর্শিদাবাদ, বড়ঞা এবং বহরমপুর। বাকি ১৯টি আসনে আমরা স্বাভাবিকভাবে জিতব। রাজ্য নেতৃত্ব যদি আমাদের সেভাবে বলে বা দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা ২২টি আসনে জিতে দেখাব। কংগ্রেস-সিপিএম ও বিজেপি কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। 
তবে হুমায়ুন এবার বহরমপুর মহকুমার কোনও আসনে দাঁড়াতে চান। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মহকুমার বহরমপুর বিধানসভা বাদে ছয়টি আসনের যেকোনও একটিতে দাঁড়ালে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভোটে জিতব। অধীরদা থাকলে আমাকে বহরমপুরের মানুষ ভোট দেবে না। মানুষের কাছে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরে অধীরদা ভোট নিয়ে নেবেন। এবার ভরতপুরে আমি দাঁড়াবই না। যদি দু’জন ব্লক সভাপতিকে দল থেকে বের করে দেয় বা সরিয়ে দেয়, তাহলে আমি একমাত্র ওখানে লড়তে পারি। 
তিনি আরও বলেন, রেজিনগর আমার নিজের জায়গা। রেজিনগরের মানুষ এখন থেকে আমাকে চাইছে। ওখানকার মানুষ বলছে, রেজিনগরের বিধায়ককে নিয়ে আমরা আর পারছি না। বিধায়ককে ওখানকার মানুষ পায় না। দলের চেয়ারম্যান হলেও, আমি তাঁকে তোয়াক্কা করি না। 
পাল্টা রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, দল আমাকে চেয়ারম্যান করেছে। ওঁ তোয়াক্কা করলেন কি না, তাতে দলের কী যায় আসে। ওঁ তো ভরতপুরের বিধায়ক। সেখানে এমন কাজ করেছেন, যে এখন আর দাঁড়াতে চাইছেন না। দল যাকে যেখানে টিকিট দেবে, সে সেখানে লড়বে। ওঁর ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে তো দল চলবে না। যা নিয়ে বর্ষীয়াণ কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, লোকসভা নির্বাচনের সময় হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে যে ধরনের কথা বলেছিলেন তারপর থেকে ওঁর রাজনৈতিক মান তলানিতে এসে ঠেকেছে। ওঁর এসব কথার কোনও গুরুত্বই নেই। এসব করে এখন নিজের বাজার গরম করছেন। 
বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র(কাঞ্চন) বলেন, হুমায়ুন আগে নিজের স্ট্যান্ড ঠিক করুন। হুমায়ুন একসময় বলছেন অধীর চৌধুরীকে আমি হারিয়েছি। আবার কোনও সময় বলছেন, আমার পরিবারের সঙ্গে অধীরবাবুর খুব ভালো সম্পর্ক। আবার বলছেন, বহরমপুর বিধানসভায় অধীরবাবু দাঁড়ালে কংগ্রেস জিতবে। বাকি ২১টি আসনে ওঁরা জিতবেন। ওঁ এখন মানুষের উপরে চলে গিয়ে নিজেকে সর্বশক্তিমান ভাবতে শুরু করেছেন। মানুষ ভোট দিচ্ছে, আর মানুষকে প্রাধান্য না দিয়ে মানুষকে অসম্মান করছেন। বহরমপুরের মানুষ জানে কোন দল এই রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ