Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বৃদ্ধ’ গাছের বয়স রানাঘাট শহরের সমান, কাটতে গিয়ে পরিবেশকর্মীদের বাধার মুখে পুরসভা

‘বৃদ্ধ’ গাছের বয়স রানাঘাট শহরের সমান, কাটতে গিয়ে পরিবেশকর্মীদের বাধার মুখে পুরসভা
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শহরের ব্যস্ততম রাস্তার ধারে ‘বৃদ্ধ’ গাছটির বয়স অনুমান করাই দায়। স্থানীয়রা বলেন, রানাঘাট শহর আর ওই গাছের বয়স নাকি সমান! অতঃপর, শহরের অনেক সুখ-দুঃখের স্মৃতি আঁকড়ে থাকা মেহগনি গাছটি কাটা যাবে না। যতই সেটি বিপজ্জনক হয়ে থাকুক না কেন। ফলে, সোমবার সকালে সেই গাছ কাটা নিয়েই রীতিমতো হলুস্থূলকাণ্ড বেধে যায় শহরে। পুরকর্মী আর একদল পরিবেশকর্মীর মধ্যে ঠেলাঠেলি চলে। শেষমেষ জীর্ণ গাছটি না কেটেই চলে যান পুরকর্মীরা। 
Advertisement
রানাঘাট স্টেশন সংলগ্ন জিএনপিসি রোড। তার পাশেই রয়েছে কয়েকশো বছরের প্রাচীন মেহগনি গাছটি। সেটি বেঁচেবর্তে থাকলেও ভিতরে পোকা ধরে গিয়েছে। কাণ্ড অতি দুর্বল বলে রিপোর্ট দিয়েছে বনদপ্তর। যে কোনও সময় বিপদ ঘটিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভার কাছে ব্যবসায়ীদের একটা অংশ গাছটি কেটে দেওয়ার জন্য আবেদন করছিলেন। তাতে সাড়া দিয়ে সম্প্রতি গাছটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় পুরসভা। পরীক্ষায় গাছটি বিপজ্জনক প্রমাণিত হওয়ায় কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয় পুর কর্তৃপক্ষ। পদ্ধতি মেনে হয় ই-টেন্ডার। 
সোমবার সকালে রানাঘাট স্টেশন বাজারের অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এদিন সকালে গাছটি কাটতে পৌঁছয় পুরসভার টিম। বন্ধ করে দেওয়া হয় ব্যস্ত জিএনপিসি রোডের একটি অংশ। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয় এলাকা। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু গাছ কাটার কাজ শুরু হতেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন পরিবেশকর্মী এবং ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ। তাঁদের দাবি, শহরের বয়সের সমান এই একটিমাত্র প্রাচীন গাছ কোনওভাবেই কাটা যাবে না। শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। কেউ কেউ গাছকে জড়িয়ে কান্নাকাটিও করতে থাকেন। খবর পেয়ে পুরকর্তারা এলে তাঁদের ঘিরে ধরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, শুধু আবেগের বশে বাধা দান, না কি এর পিছনে রয়েছে অন্য কারণ? স্থানীয় কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, রাস্তার পাশে পুরসভার নিকাশি নালা। সেটার উপর প্রচুর দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে। নিকাশি সাফাইয়ে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এইসব দখলদাররা। দোকানদারা মনে করেন গাছটি তাঁদের আশ্রয়। যদিও এদিন আন্দোলনের অন্যতম মুখ পরিবেশ কর্মী সমীর সরস্বতী বলেন, ‘বহু পুরনো এই গাছ রানাঘাট শহরের ঐতিহ্য। গাছটি কেটে ফেললে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। বহু পাখির আশ্রয়স্থল এই গাছ। তাই কোনওভাবেই আমরা এই গাছ কাটতে দেব না।’ এদিকে, গাছ কাটার কাজে বাধা পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন পুরসভার আধিকারিক তথা ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘পুরসভা নিজে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।  সেখানে পরিবেশকর্মীদের একটা অংশ গাছ কাটতে বাধা দেন। তাঁদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষরিত আবেদন নিয়েছি। তার ভিত্তিতে গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে, গাছটির স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিপজ্জনক প্রমাণিত হয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে ভেঙে পড়ে প্রাণহানিরও।’
সম্পর্কিত সংবাদ