নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাইরের লোক দেখে এক বছরের শিশু কান্নাজুড়ে দিয়েছিল। কান্না না থামালে একরত্তিকে কাটারির কোপ দেওয়ার হুমকি দেয় ডাকাতরা। তা শুনে ভয়ে শিউরে উঠেছিলাম। মেয়ের মুখ চেপে ধরি। ও ছটফট করছিল। কিন্তু প্রাণ বাঁচানোর জন্য এটা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না। কথাগুলি বলছিলেন কালনার হিজুলির হৈমন্তী ভদ্র। বুধবার রাতে তাঁদের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বোমা, পিস্তল এবং কাটারি নিয়ে ডাকাতরা তাঁদের বাড়িতে হানা দেয়। তখন একরত্তি মায়ের কোলে খেলা করছিল। দুষ্কৃতীদের দেখে বাড়ির সকলেই ভয় পেয়ে যান। হৈমন্তীদেবী বলেন, তখন বাড়িতে কেউ টিভি দেখছিলেন আবার কেউ কেউ গল্পে মশগুল ছিলেন। সেই সময় আমার জেঠুর গলায় কাটারি ধরে চার দুষ্কৃতী ঘরে ঢোকে। প্রথমটা কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু ওদের হাতে আগ্গেয়াস্ত্র দেখে ভয় পেয়ে যাই। বাড়িতে ঢুকে ওরা সবার মোবাইল কেড়ে নেয়। সবাইকে একটা ঘরে আটকে রেখে। আমার এক বছরের মেয়ে কান্না করতে থাকে। ওদের একজন মেয়ের গায়ে হাত দিয়ে বলে ওকে চুপ করা। না হলে কেটে দেবে। কোলের শিশুকে একজন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। মানুষ এত নিষ্ঠুর হতে পারে এমনটা ভাবতে পারিনি। মেয়ে চুপ না করলে হয়তো ওকে ওরা মেরেই ফেলত। তিনি আরও বলেন, মেয়ে এখনও ভয় পেয়ে রয়েছে। ও ঘুমাচ্ছে না। সমানে কেঁদে চলছে। ওকে দেখে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। বাড়ির একজনকে ওরা মারধরও করেছে। বাড়ি থেকে সবকিছু লুট করে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের সব থেকে বেশি চিন্তা ছিল মেয়েকে নিয়ে। ওর যদি কোনও ক্ষতি করত তাহলে বাঁচতাম কীভাবে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা করেই দু’টি বাড়িতে লুট করেছে। তাদের কাছে খবর ছিল একটি বাড়িতে মোটা অঙ্কের টাকা ও অলংঙ্কার রয়েছে। কালনার মহকুমা পুলিস আধিকারিক রাকেশ চৌধুরী বলেন, ডাকাতির খবর পাওয়ার পরই বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিং করা হয়। দু’জন হুগলি জেলায় পাকড়াও হয়েছে। তারা ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, সন্ধ্যার একটু পরে দুষ্কৃতীরা হানা দিয়েছিল। ওই ঘটনার পর সবাই আতঙ্কে রয়েছে। ফুটফুটে শিশুটিও ভয়ে কেঁপে উঠেছে। মায়ের কোল ছেড়ে আর নামতে চাইছে না।



