Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আরও পড়তে চাই’, ফোন করে নিজের বিয়ে আটকাল নাবালিকা

‘আরও পড়তে চাই’, ফোন করে নিজের বিয়ে আটকাল নাবালিকা
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ‘বাবা-মা বিয়ে দিতে চাইছে। আমি এখনই বিয়ে করতে রাজি নই। আমি আরও পড়তে চাই। খেলতে চাই। আমাকে বাঁচান।’ 
Advertisement
রবিবার রাতে ১৭ বছরের নাবালিকা এক দশম শ্রেণির ছাত্রী ফোনে এই করুন আর্তি জানিয়েছিল সমাজকর্মী রাতুল বিশ্বাসকে। ফোন পেয়েই রাতুলবাবু দলবল নিয়ে ছুটে যান আলিপুরদুয়ার শহরেরই বাসিন্দা ওই নাবালিকার বাড়িতে। মেধাবী ছাত্রীটির বাবা-মাকে অনেকক্ষণ ধরে বুঝিয়ে এই বিয়ে থেকে নিরস্ত্র করেন রাতুলবাবুরা। 
কিন্তু তারপরেও ভয় কাটেনি রাজ্য স্টিপল চেজে প্রথম ও একই ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় হওয়া ওই ছাত্রীর। তাই রাতুলবাবুদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে সোমবার ছাত্রী লিখিতভাবে একই আর্জি জানিয়েছে ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশন অফিসারের কাছে। আর্জির কপি দিয়েছে ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছেও। সমাজকর্মী রাতুলবাবু বলেন, আমরা ছাত্রীটির সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাই। এত সচেতনতা কর্মসূচির পরও মানুষ নাবালিকার বিয়ে নিয়ে সজাগ হচ্ছে না। তাও খোদ শহরাঞ্চলে। নাবালিকা ছাত্রীটির বিয়ের বয়স যে হয়নি আমরা তার বাবা-মাকে বুঝিয়েছি। 
এবিষয়ে ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশন অফিসার লালকমল চক্রবর্তীর কোনও বক্তব্য মেলেনি। তবে ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান অসীম বসু বলেন, ওই ছাত্রীর আর্জির চিঠি পেয়েছি। কোনভাবেই নাবালিকার বিয়ে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে ছাত্রীর বাবা-মাকে বোঝানো হবে। 
দশম শ্রেণির ছাত্রীটি পড়াশোনাতেও মেধাবী। শহরের একটি নামী সরকারি গার্লস স্কুলে পড়ে। ওর বাবা মিষ্টির দোকানের কারিগর। মা গৃহবধূ। ছাত্রীর দুই ভাই আছে। ফুল জোগাড় করে ফুল ব্যবসায়ীদের মালা গেঁথে দিয়ে সামান্য উপার্জন করে নাবালিকা তার বাবা-মাকে সংসারে সাহায্যও করে। নাবালিকা ছাত্রীটি জানিয়েছে, ১২টি মালা গেঁথে দিলে ছয় টাকা পাওয়া যায়। 
গতবছর কলকাতায় রাজ্য স্টিপল চেজে তিন হাজার মিটার দৌড়ে ওই ছাত্রী প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। গতবছরেই রাজ্যের হয়ে কটকে জাতীয় স্তরের ওই খেলায় তৃতীয় স্থান পেয়েছিল। জেলার পরিচিত অ্যাথলেটিক কোচ পরাগ ভৌমিকের কাছে নিয়মিত অনুশীলন করে ছাত্রীটি। 
পরাগবাবু বলেন, ছাত্রীটি দুঃস্থ পরিবারের। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোতেও ভালো মেয়েটি। অজ্ঞতা থেকেই ওর বাবা-মা বিয়ের তোড়জোড় করছিল। ওর সাহসকে সাধুবাদ জানাতেই হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ