বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল : ‘মণিপুরের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা চাই নতুন করে বিধানসভা ভোট হোক। এখন যাঁরা বিজেপির বিধায়ক, তাদের উপর বিশ্বাস করা যায় না। নতুন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়ক হিসেবে নতুন মুখ বড় প্রয়োজন।’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পদত্যাগের পর এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজধানী ইম্ফলের বাসিন্দা লাইশরাম থোকচোম।
Advertisement
গত প্রায় দু’বছর ধরে জাতিগত হিংসার আগুনে জ্বলছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য রাজ্যের বিরোধী দলগুলি বারেবারেই মুখ্যমন্ত্রী বীরেনের ইস্তফার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল। যদিও তাতে এতদিন কর্ণপাতই করেনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু শেষপর্যন্ত ঘরে-বাইরে চাপের মুখে শেষপর্যন্ত নতিস্বীকার করতে হয়েছে। বীরেনকে সরিয়ে দিয়েছে গেরুয়া দলের নেতৃত্ব। রবিবার বিকেলে রাজ্যপালের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন বীরেন। তাঁর ইস্তফার পর রাজ্যজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইম্ফলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী। এখন প্রশ্ন হল, মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? সূত্রের খবর, এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী বুধবার দিল্লিতে বৈঠক ডেকেছে বিজেপি। সেখানে মণিপুরের সমস্ত বিজেপি বিধায়ককেই উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এমনকী, দলের ১০ কুকি-জো বিধায়ককেও ডাকা হয়েছে।
সমগ্র হিংসার ঘটনায় রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উপর সমাজের বিভিন্ন স্তরেই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ মণিপুরবাসী একাংশের দাবি, ‘নতুন ভোট হোক। বিজেপি থেকে আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী চাই না’। শুরু থেকেই বীরেনের পদত্যাগের দাবিতে সুর চড়িয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ বিমল অকোইজাম। মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফার পর তিনি বলেছেন, ‘এই সরকারের রাজ্য চালানোর কোনও যোগ্যতাই ছিল না। এটা জলের মতো স্পষ্ট যে, দলের মধ্যে সমর্থন হারিয়েই বীরেনকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।’ একই সুর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কেইশম মেঘাচন্দ্রর গলাতেও। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের মানুষ তো বটেই, বিজেপি বিধায়করাও সরকারের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। বিধানসভা অধিবেশনে কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনলে তিনি হেরে যাবেন। একথা বুঝতে পেরেই বীরেনের ইস্তফা।’
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ বীরেনকে ‘কাঠ পুতুল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, বীরেনের পদত্যাগ বিলম্বিত পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দায় এড়াতে পারেন না। তাই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত ছিল। হিংসা শুরু হওয়ার পর থেকে একবারও মণিপুরে আসেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এজন্য মোদিকেও কটাক্ষ করেছেন রমেশ।
মণিপুর বিজেপির সভাপতি সারদা দেবী অবশ্য কংগ্রেসের সমস্ত দাবি খারিজ করেছেন। এদিকে, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) বীরেনের ইস্তফা পরবর্তী পরিস্থিতিতে মণিপুরের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করতে পারে বলে সূত্রের খবর।
সমগ্র হিংসার ঘটনায় রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উপর সমাজের বিভিন্ন স্তরেই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ মণিপুরবাসী একাংশের দাবি, ‘নতুন ভোট হোক। বিজেপি থেকে আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী চাই না’। শুরু থেকেই বীরেনের পদত্যাগের দাবিতে সুর চড়িয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ বিমল অকোইজাম। মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফার পর তিনি বলেছেন, ‘এই সরকারের রাজ্য চালানোর কোনও যোগ্যতাই ছিল না। এটা জলের মতো স্পষ্ট যে, দলের মধ্যে সমর্থন হারিয়েই বীরেনকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।’ একই সুর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কেইশম মেঘাচন্দ্রর গলাতেও। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের মানুষ তো বটেই, বিজেপি বিধায়করাও সরকারের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। বিধানসভা অধিবেশনে কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনলে তিনি হেরে যাবেন। একথা বুঝতে পেরেই বীরেনের ইস্তফা।’
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ বীরেনকে ‘কাঠ পুতুল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, বীরেনের পদত্যাগ বিলম্বিত পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দায় এড়াতে পারেন না। তাই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত ছিল। হিংসা শুরু হওয়ার পর থেকে একবারও মণিপুরে আসেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এজন্য মোদিকেও কটাক্ষ করেছেন রমেশ।
মণিপুর বিজেপির সভাপতি সারদা দেবী অবশ্য কংগ্রেসের সমস্ত দাবি খারিজ করেছেন। এদিকে, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) বীরেনের ইস্তফা পরবর্তী পরিস্থিতিতে মণিপুরের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করতে পারে বলে সূত্রের খবর।



