Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আলাদা’ থাকার অজুহাতে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে আবেদনের হিড়িক, জেরবার প্রশাসন

‘আলাদা’ থাকার অজুহাতে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে আবেদনের হিড়িক, জেরবার প্রশাসন
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ঘটনা ১: ‘ছেলে থাকতে দিচ্ছে না। নতুন বাড়ি চাই।’ ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’-তে ফোন করে আবেদন করলেন বাবা। জয়নগরের রামকৃষ্ণ সরখেলের এই ফোন পেয়ে পরিস্থিতি যাচাই করতে যান আধিকারিকরা। তাঁরা গিয়ে দেখেন, এক বাড়িতেই সবাই থাকেন। ছেলে ‘বাংলার বাড়ি’র টাকা পেয়েছেন। নতুন করে এবার চাইছেন  বাবা! 
Advertisement
ঘটনা ২: ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া। তাই একজন আলাদা হতে চাইছেন। তার জন্য পৃথক ঘর চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে। কুলপির মহম্মদ নাজিরের এমন ফোন পেয়ে ব্লক প্রশাসন প্রথমে কিছুটা অবাকও হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী সেখানে আধিকারিকরা গিয়ে যাচাই করে রিপোর্ট দেন পোর্টালে।
এভাবে  ‘আলাদা থাকতে চাই’ অজুহাতে ‘বাংলার বাড়ি’র জন্য আবেদনের হিড়িক পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো জেরবার ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। কারণ, রোজ যে সংখ্যক আবেদন আসছে, তা যাচাই করার মতো লোকবল তাদের হাতে নেই। এই অবস্থায় যে আবেদনগুলি যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে, তার সিংহভাগই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আধিকারিকরা বলছেন, এভাবে বাড়ি চাইলেই তো পাওয়া যাবে না। একটি পরিবারে একজনই বাড়ি পাবেন। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির কারণ দেখিয়ে আলাদা ঘরের দাবি করছেন অনেকেই। কিন্তু এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। গত বছর অক্টবরে মাসে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, কেন্দ্র টাকা না দিলেও নিজস্ব কোষাগার থেকে খরচ করে উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির টাকা দেবে তারাই। আগের তালিকায় নাম না থাকা অনেক মানুষও আশায় বুক বেঁধেছিলেন, আবেদন করলে তাঁদেরও সরকার ঘর তৈরির টাকা দেবে। তারপর থেকে ঘর পাওয়ার জন্য এই ধরনের আবেদনের বন্যা বয়ে যায় জেলাজুড়ে। অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত এমন লক্ষাধিক আর্জি এসেছে বলে খবর। এর মধ্যে এখনও বহু আবেদন যাচাই করে উঠতে পারেনি প্রশাসন। জয়নগর, ডায়মন্ডহারবার, কুলপি থেকেই বেশি ফোন এসেছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ধরনের আবেদনগুলি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হল (গৃহীত না বাতিল), সেটাই আপাতত রিপোর্ট আকারে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ পোর্টালে আপলোড করে দিচ্ছেন আধিকারিকরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ