Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আগে আমি নেব’, জল ভরা নিয়ে রক্তারক্তি জলপাইগুড়িতে

‘আগে আমি নেব’, জল ভরা নিয়ে রক্তারক্তি জলপাইগুড়িতে
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কার দরকার বেশি? এই প্রশ্নেই খাওয়ার জল বনাম শৌচকর্মের জল নেওয়া ঘিরে ঝামেলা। আর তারই জেরে মারপিট। রক্তারক্তি। জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দু’পক্ষের তিনজন। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়ার এই ঘটনায় আলোড়ন ছড়ায়। দু’পক্ষই থানার দ্বারস্থ হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিস। ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্বরূপ মণ্ডল বলেন, কে আগে জল নেবেন তা নিয়ে ঝামেলা। দু’পক্ষই কথা বলতে এসেছিল। পুলিসেও অভিযোগ জানিয়েছে বলে শুনেছি।
Advertisement
তখন সকাল সাড়ে সাতটা। রাস্তার কলে জল নিতে ভিড়। খাওয়ার জল নিতে এসেছেন মেনতা খাতুন। এদিকে, তখন কলের পাড়ে শৌচকর্মের জন্য জল নিতে বালতি হাতে দাঁড়িয়ে মহম্মদ আলি। দু’জনের কারও তর সয় না। কে আগে জল নেবেন, তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে কলপাড়ে চলে আসেন তাঁদের বাড়ির লোকজন। বেঁধে যায় মারপিট। কিল, চড়, ঘুসি থেকে লাঠিসোঁটা দিয়ে চলতে থাকে বেধড়ক মারধর। অবশেষে কোনওক্রমে এলাকার লোকজনের হস্তক্ষেপে থামে মারপিট।
জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়েরকারী রেহেনা খাতুনের দাবি, আমাদের বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে টাইম কল। ওই কলে এদিন মা মেনতা খাতুন খাওয়ার জল নিতে গিয়েছিল। সেই সময় মহম্মদ আলি নামে এক প্রতিবেশী মাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করেন। মায়ের কাছ থেকে কলসি নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন। মাকে মারধর করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাবা জব্বর মহম্মদ ঘটনাস্থলে যান। তাঁকেও মারধর করা হয়েছে। এমনকী আমাকেও ওরা মেরেছে। মারধর করায় আমার মা ও বাবা জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
অন্যপক্ষের তরফে মহম্মদ আলির স্ত্রী সায়রা বানুর দাবি, এদিন ওই মহিলা আগে একবার জল নিয়ে যান। এরপর আবার জল নিতে এসেছিলেন। আমার স্বামী তখন বালতিতে জল নিচ্ছিল। ওই মহিলা বালতি সরিয়ে দিয়ে নিজের কলসি বসান। স্বামী প্রতিবাদ করায় ওই মহিলার বাড়ির লোকজন আমার স্বামীকে মারধর করে। 
এদিকে, এদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে টেলিফোনে মেনতা খাতুন বলেন, আমি খাওয়ার জল নিতে গিয়েছিলাম। মহম্মদ আলি নামে ওই ব্যক্তি শৌচকর্মের জন্য জল নিতে তিনটি বালতি নিয়ে এসেছিলেন। এক বালতি জল ভরার পর আমি বলি, খাওয়ার জল নিয়ে নিই। তারপর তিনি বাকি বালতিতে জল ভরবেন। এটা বলতেই আমার কলসি ছুড়ে ফেলে দেন ওই ব্যক্তি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ