Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘৫ একর জমির মালিক’, আবাস প্রকল্প থেকে বাদ ২০০ গ্রামবাসী

‘৫ একর জমির মালিক’, আবাস প্রকল্প থেকে বাদ ২০০ গ্রামবাসী
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: দু’ফসলি পাঁচ একর জমি থাকায় আবাস যোজনার তালিকা থেকে নামবাদ গিয়েছে। নাম বাদ যাওয়ার আজব কারণ দেখে হতবাক পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের লাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের একই গ্রামের প্রায় ২০০ জন। প্রত্যেকেরই নাকি পাঁচ একর জমি রয়েছে। অথচ বাস্তব ঘটনা হল, তাঁদের কারও ওই পরিমাণ জমি নেই। ভাঙা ঘরে বসবাস করেন তাঁরা। প্রশাসনিক গাফিলতিতেই ভুল কারণ দেখিয়ে তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি মেনে নিয়েছেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরাও। 
Advertisement
জানাগিয়েছে, ২০১৮ সালের পুরুলিয়ার ১নম্বর ব্লকের লাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের চাকড়া গ্রামের ৬ ও ৭ সংসদের মোট ৩৮৫ জন বাসিন্দার নাম প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় ছিল। সেই মতো তাঁদের রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায়। কিন্তূ ২০২২সালের সমীক্ষার সময় দেখা যায় তালিকায় তাঁদের নাম নেই। বিষয়টি জানাজানি হতেই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস, জেলাশাসকের কাছে আবেদন করেন বঞ্চিতরা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
এরপর প্রশাসন বাদ পড়াদের একটি তালিকা তৈরি করে। দেখা যায়, বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাকি ৫একর জমি রয়েছে। সেই জমিতে ২বার চাষ হয়। এর জন্যই তালিকা থেকে বাদ চলে যায় তাঁদের নাম। অথচ তাঁদের অধিকাংশইভাঙা মাটির বাড়িতে বসবাস করছেন। বর্ষার হাত থেকে বাঁচতেবাড়ির ছাদে ত্রিপল লাগানো রয়েছে। একাধিক বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে পড়ে গিয়েছে। এই ভাবেই দিন গুজরান করছেন চাকড়া গ্রামের ১৯৯টিরও বেশি পরিবার।
স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা খগেন্দ্রনাথ রাজওয়ার গোটা বিষয়টির জন্য দায়ী করছেন প্রশাসনকে। তিনি বলেন, বার বার প্রশাসনের দারস্থ হয়েছি কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ডাবলু রাজোয়াড়, বিজয় সহিস বলেন, আমাদের নাকি  পাঁচ একর জমি রয়েছে। তাই আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যারা সমীক্ষা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা দরকার। তা ছাড়া যে কোনও সময় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা গ্রামে এসে বাড়ি বাড়ি খোঁজ নিয়েও দেখতে পারেন। ওই পরিমাণ জমির সন্ধান তাঁরা দিতে পারলে কেউ আর আবাস যোজনার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করব না। 
লাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ময়ূর বাহন ঘোষাল বলেন, বিষয়টি সংশোধনের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন করা হয়েছে। এমনকী কেন্দ্রীয় টিম যখন আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে তদন্ত এসেছিলেন সে সময়ও তাঁদের হাতে নথি তুলে দেওয়া হয়েছিল। ভুলের বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করলেও সংশোধনের কথা বলে যাননি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি জন আবাস যোজনায় তালিকায় নাম থাকার যোগ্য। এটা সেন্ট্রাল পোর্টালের ভুল বলে মনে হয়। সরকারি কর্মচারীরাই তো ওই সমীক্ষার কাজও করেছিলেন। তাতে তো আমাদের কোনওভাবেই যুক্ত রাখা হয়নি। বর্তমানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে, তাতেও ওই পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী সমীক্ষা করা হচ্ছে। তাই সংশোধনের কোনওজায়গা নেই।
পুরুলিয়া ১নম্বরের বিডিও বলেন, সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত রয়েছি। ১৯৯ জনের তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। প্রধানও বিষয়টি নিয়ে আমাদেরকে চিঠি দিয়েছিলেন। ২০২২ সালেও সমস্যা সমাধানের জন্য ব্লকের পক্ষ থেকেও চিঠি পাঠানো হয়েছিল। নভেম্বর মাসের শুরুতে ফের সমস্যার সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই আবাস যোজনায় তালিকায় নাম থাকার যোগ্য। মনে হয় প্রযুক্তিগত কোনও ত্রুটির কারণে এরকম সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।
সম্পর্কিত সংবাদ