শ্যামল পাল, বাগডোগরা: ঝা চকচকে শপিং মলের সময়কালে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বিক্রি করা ফেরিওয়ালাদের ভুলতে বসেছে খুদেরা। ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’ থিম রেখে এবারের বিশেষ আকর্ষণ লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির। শনিবার ধুমধাম করে খুঁটিপুজোর মাধ্যমে পুজো প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হল। ৬৯তম বর্ষে পদার্পণ করছে লোয়ার বাগডোগরার এই পুজো। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বাজেটের পুজোর প্যান্ডেলের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফেরি করা ফেরিওয়ালাদের তুলে ধরা হবে। কাগজ, বাঁশ, সাইকেলের রিং সহ নানান প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি হবে পুজো মণ্ডপ। আইসক্রিম ফেরিওয়ালা, চানাচুর বিক্রেতা সহ মেয়েদের চুড়ি, ফিতে, ক্লিপ নিয়ে ফেরি করার ছবি ফুটিয়ে তোলা হবে।
বাগডোগরার বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম লোয়ার বাগডোগরা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো। প্রত্যেক বছরই এলাকাবাসীর মন কাড়ে এই পুজো। গত বছরও তারা পুরস্কৃত হয়েছে। এবছরও দর্শকদের মন কাড়তে কলকাতা থেকে শিল্পীরা এসে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এছাড়াও থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কুমোরটুলির প্রতিমা ও চন্দননগরের আলোকসজ্জা থাকছে। শনিবার পুজো কমিটির সদস্যরা খুঁটিপুজোর মাধ্যমে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন। পুজো উপলক্ষ্যে একাধিক সমাজ সেবামূলক কর্মসূচি হয়ে থাকে এই পুজোয়। এছাড়া মায়ের আগমনী উপলক্ষ্যে বাগডোগরায় ২৬ সেপ্টেম্বর কার্নিভালের আয়োজন করেছে লোয়ার বাগডোগরা পুজো কমিটি। কয়েক হাজার মানুষের ভিড় হবে এই কার্নিভালে।
পুজো কমিটির সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বলেন, প্রত্যেক বছর এলাকাবাসীর মন কেড়েছে আমাদের পুজো। এবছরও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা দর্শকদের মনে জায়গা করে নেবে বলে আমরা আশাবাদী। পুজো উপলক্ষ্যে আগমনী কার্নিভাল, একাধিক সামাজিক কর্মসূচি থাকছে। কলকাতা থেকে বিশেষ ঢাকি, প্রতিমা ও আলোকসজ্জা থাকবে। পুজো কমিটির চার জন সম্পাদকের মধ্যে শর্মিষ্ঠা চন্দ বলেন, বাগডোগরাবাসী আমাদের পুজোর অপেক্ষায় থাকে। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা আমাদের পুরনো দিনের স্মৃতি ফুটিয়ে তুলবে।
নিজস্ব চিত্র।