সংবাদদাতা, কাঁথি: নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ায় সৈকতশহর দীঘায় পর্যটকরা হোটেলবন্দি। মঙ্গলবার দীঘার সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল। সকাল থেকেই সমুদ্রে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। বড় বড় ঢেউ গার্ডওয়ালে আছড়ে পড়ে। বৃষ্টির কারণে সকালের দিকে সৈকতে পর্যটক সংখ্যা কম ছিল। বেশিরভাগ পর্যটকই হোটেলে কাটান। যাঁরা সমুদ্র দর্শন কিংবা স্নান করতে বেরিয়েছিলেন তাঁদের গার্ডওয়ালের ধারেকাছে যেতে দেননি কর্তব্যরত নুলিয়া ও পুলিশকর্মীরা। তাঁরা মাইকিং করে সবসময় সতর্ক করেন। পর্যটকরা দূরে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের রূপ প্রত্যক্ষ করেন। তবে সকালে বৃষ্টি হলেও বিকেলে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় পর্যটকরা সৈকতে বের হন। পুজোর মরশুমে মেঘ কেটে রোদ ঝলমলে আবহাওয়া হোক, চাইছেন পর্যটক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। দীঘায় বেশ কয়েকটি পুজো হয়। তাছাড়া জগন্নাথ মন্দির দর্শনে এবার পুজোয় পর্যটক থেকে শুরু করে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এমনিতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও সমুদ্র উত্তাল থাকার জন্য মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আগামী ২৭সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যাতে কোনও দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তারজন্য এদিন সৈকতে বারবার মাইকিং করা হয়। পুজোর সময় দীঘায় পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে বৃষ্টি ও দুর্যোগের কারণে সৈকতশহরে পর্যটক আনাগোনা কমেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি থাকবে না। দীঘা আবার জমজমাট হয়ে উঠবে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন জোড়া নিম্নচাপের প্রভাবে দীঘা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বজায় থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটক এবং সমুদ্র সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তা বলেন, সমুদ্রে ঝুঁকি এড়াতে আমরা পর্যটকদের হোটেলে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে ছন্দে ফিরবে দীঘা। -নিজস্ব চিত্র