Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

ভালবাসা

ভগবানের শক্তিশালী নাম ছাড়াও হিন্দু অধ্যাত্ম সংস্কৃতিতে আরও কিছু বীজমন্ত্র আছে। অর্থ জেনে ভক্তি-সহকারে সেই মন্ত্র জপ করলে দিব্যপ্রেম, দিব্যশক্তি, দিব্যজ্ঞান প্রভৃতির উদয় হয়।

ভালবাসা
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভগবানের শক্তিশালী নাম ছাড়াও হিন্দু অধ্যাত্ম সংস্কৃতিতে আরও কিছু বীজমন্ত্র আছে। অর্থ জেনে ভক্তি-সহকারে সেই মন্ত্র জপ করলে দিব্যপ্রেম, দিব্যশক্তি, দিব্যজ্ঞান প্রভৃতির উদয় হয়। প্রতিটি শব্দই আন্তর-চৈতন্যরূপ। ভালবাসা শব্দটি শুধু ভা-ল-বা-সা—এই চারটি অক্ষরের সমুচ্চয় নয়, এর গভীরতর অর্থ আছে। “গাছ” শব্দটি দ্বারা আপনি চোখের সামনে ঠিক যেটি দেখছেন বা কানে শুনছেন তাই মাত্র বোঝায় না। আরও গভীরতর কিছু আছে। এই শব্দগুলির অর্থ জানা থাকলে তাদের কথা বললে বা শুনলে এক আন্তর-চৈতন্যের উদয় হয়। ভগবান্‌ বা যীশু বা কৃষ্ণ বা রাম বা রামকৃষ্ণের যথার্থ অর্থবোধ হলে এই নামের যেকোনটির উচ্চারণমাত্র সেই আন্তর-চৈতন্যের উদয় হবে। ফলে ঐশব্দগুলির যেকোনটি কিছু ভক্তি-বিশ্বাস সহ অধ্যবসায়ের সঙ্গে জপ করলে তা মনের তলদেশ পর্যন্ত শুদ্ধ করে ভগবানের ভক্তি বৃদ্ধির সহায়ক হবে। শ্রীকৃষ্ণ একটি উদাহরণ দিয়েছেন—মনে কর, একতাল সোনা তোমার কাছে আনা হয়েছে। তুমি এটি পরিষ্কার করতে চাও। উপরে কোন ধূলো জমে থাকলে সেটি মুছে ফেল। তারপর দেখলে এর মধ্যে কিছু কাদা মাটি বা অন্যকিছু ঢুকে আছে। এখন তাহলে এটি গালাতে হবে। তার জন্য কোন দক্ষ স্বর্ণকারের কাছে তোমাকে যেতে হবে। সে তখন সোনার তালটি আগুনে ফেলে খাঁটি সোনা থেকে ভেজাল পৃথক্‌ করে দেবে। অনুরূপে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “ভগবানের নাম এই উদ্দেশ্য সাধন করে।” শুধু নৈতিক জীবন যাপন করে, সাধু-সঙ্গ করে, সৎ-কর্মের অনুশীলন করে মনের উপরিতলটি পরিষ্কার করা যায়। কিন্তু যতক্ষণ না অভিজ্ঞ গুরুর কাছ থেকে ভগবানের শক্তিশালী নাম মনের মধ্যে ঢুকছে, ততক্ষণ মনের অবচেতন স্তরের অপবিত্রতা দূর করা যায় না। আর এগুলি যতক্ষণ না অপসারিত হচ্ছে ততক্ষণ দৃঢ় মূল ভোগেচ্ছাও থেকে যায়। ভগবানে যথার্থ ভক্তি জন্মায় না। সেইজন্য হিন্দু আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি মতে ভগবানের নাম জপ করা উচিত। এতে ক্রমশঃ মন পবিত্র হবে এবং যথার্থ ভক্তির উদয় হবে। প্রার্থনার ঘনীভূত রূপ মন্ত্রজপ, ধ্যানের সঙ্গে সংযুক্ত। মন্ত্র জপের সঙ্গে সঙ্গে ভগবানের রূপ চিন্তা হয়। ভগবানের সেই রূপটিই আপনার মনে আসে যাঁর কথা আপনি ভাবেন বা যাঁকে পূজা করেন। ভগবানের মূর্ত-বিগ্রহ ছাড়া তাঁর সম্বন্ধে চিন্তা করা আমাদের পক্ষে বড়ই কষ্টকর। সত্তার সূক্ষ্মতম ভাব হলেন ভগবান্‌। মন তাঁকে ধরতে পারে না। উপনিষদে বলা হয়েছে—

Advertisement

ন চক্ষুষা গৃহ্যতে নাপি বাচা/ নান্যৈর্দেবৈস্তপসা কর্মণা বা।/ জ্ঞানপ্রসাদেন বিশুদ্ধসত্ত্ব—/ স্ততস্তু তং পশ্যতে নিষ্কলং ধ্যায়মানঃ।।
—ব্রহ্ম চক্ষুদ্বারা গৃহীত হন না, বাক্যের দ্বারাও নয়। অপর ইন্দ্রিয়ের দ্বারা তপস্যাদ্বারা অথবা অগ্নিহোত্রাদি কর্মের দ্বারাও গৃহীত হন না। বুদ্ধি নির্মল হলেই লোক ব্রহ্মজ্ঞানের যোগ্য হয়, অতএব ধ্যানপরায়ণ ব্যক্তিই সেই নিরবয়ব ব্রহ্মকে দর্শন করেন। মন্ত্র জপের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রের প্রতিপাদ্য আপনার ইষ্টদেবতার ধ্যান করেন। বস্তুতঃ নাম আর নামী (রূপ) অবিচ্ছেদ্য। ‘যীশুখ্রীষ্ট’ নাম জপের সঙ্গে সঙ্গে যীশুখ্রীষ্টের রূপটি আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। 
স্বামী সৎপ্রকাশানন্দের ‘ধ্যান সাধনা সিদ্ধি’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ