Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পদ্ম দাপটে অস্তিত্ব সঙ্কটে, হাত মেলাল জোড়াফুলের দুই গোষ্ঠী

বিজেপির দাপাদাপিতে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার দায়ে হাত মেলাল খড়গ্রামে তৃণমূলের দুই বিরোধী শিবির। প্রায় দু’ বছরের বিবাদ মিটিয়ে উভয়পক্ষ বুধবার সন্ধ্যায় একসঙ্গে কর্মীদের নিয়ে মিটিং করলেন।

পদ্ম দাপটে অস্তিত্ব সঙ্কটে, হাত মেলাল জোড়াফুলের দুই গোষ্ঠী
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: বিজেপির দাপাদাপিতে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার দায়ে হাত মেলাল খড়গ্রামে তৃণমূলের দুই বিরোধী শিবির। প্রায় দু’ বছরের বিবাদ মিটিয়ে উভয়পক্ষ বুধবার সন্ধ্যায় একসঙ্গে কর্মীদের নিয়ে মিটিং করলেন। দু’ পক্ষের বিবাদের জেরে এবারের বিধানসভায় দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয় বলে মেনে নিল উভয়পক্ষের নেতৃত্বও।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে দু’ পক্ষের কর্মীদের স্থানীয় শেরপুর দলীয় কার্যালয়ের সামনে জমা হতে দেখা যায়। সন্ধ্যায় সংখ্যাটা প্রায় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছয়। সন্ধ্যার আগেই সেখানে হাজির হন তৃণমূলের প্রাক্তন খড়গ্রাম ব্লক সভাপতি হুমায়ুন কবির ও তৃণমলের দাপুটে নেতা আলতামাস কবির। এই ঘটনায় সামান্য হলেও আশ্চর্য্য হন স্থানীয়রা। কারণ ওই দুই নেতার মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে বাক্যালাপ ছিল না। দুই নেতার অনুগামীরা পরস্পরকে শত্রু বলে মনে করত। স্থানীয় তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে দু’ পক্ষের নেতা ও সক্রিয় কর্মীদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও পরে কর্মীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় আলোচনা সভা কার্যালয়ের ছাদে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে ওই দুই নেতা তাঁদের বিবাদের ফায়দা অন্য দল নিয়েছে বলে স্বীকার করেন। কর্মীদের হয়রান হতে হয়েছে বলেও মেনে নেওয়া হয়। দু’ পক্ষের বিবাদের জেরে এলাকার পঞ্চায়েতগুলির উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ও পঞ্চায়েতগুলিতে একের পর এক অনাস্থা আসছে বলে দাবি করা হয়। প্রায় দু’ বছরের বিবাদের সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ ও মামলা পর্যন্ত হয়। সেগুলি পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানোও হয়। তৃণমূলের প্রাক্তন খড়গ্রাম ব্লক সভাপতি বলেন, বিশেষ কয়েকটি কারণে আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেটা এবার মিটিয়ে নিয়ে ফের একসঙ্গে পথচলা শুরু করলাম। আমাদের এই বিবাদের জেরে বিজেপি ফায়দা তুলেছে, এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। তবে জোর দিয়ে বলতে পারি, খড়গ্রামে ফের তৃণমূলই সেরা দল হিসেবে উঠে আসবে। প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস মার্জিত। কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর কাছে তিনি হেরে যান। প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, দলের একটি পক্ষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আমার পরাজয় হয়। আমি চেষ্টা করেও দু’ পক্ষকে এক জায়গায় আনতে পারিনি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি ক্ষমতায় আসায় ভয়ে ওই দুই নেতা একত্রে চলার কথা ভেবে থাকতে পারেন। কারণ খড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর দলীয় কর্মীদের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার দাবি উঠছে। আবার দুই নেতা নিজেদের অস্তিত্ব সঙ্কটের কথা ভেবেও একসঙ্গে চলার কথা ভাবতে পারেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা আদিত্য মৌলিক জানান, আমরা মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছি। রাজনৈতিক ফায়দা তুলে নয়। তৃণমূল নেতা আলতামাস বলেন, আমাদের দূরত্বের কারণেই বিজেপি এখানে ফায়দা তুলেছে। তবে এখন আমরা সবাই তৃণমূলের সৈনিক। যদিও তাঁরা কালীঘাট তৃণমূলে না ঋতব্রত তৃণমূলে আছেন, তা খোলসা করতে চাননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ