সংবাদদাতা, ডোমকল: হ্যাম রেডিওর তরঙ্গেই মিলেছিল আশার আলো। পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছিল, দৌলতাবাদের নওদাপাড়ার হারানো ছেলে এখন বাংলাদেশের এক গ্রামে আছেন। এরপরে এক বছরের অবিরাম দৌড়ঝাঁপ, নানা অনিশ্চয়তার পরে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে রবিবার রানিনগর সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। এদিন ওই যুবককে বিএসএফের ৭৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের হারুডাঙা ক্যাম্পের জওয়ানদের হাতে হস্তান্তর করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জওয়ানরা। দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে ছেলে ঘরে ফেরায় খুশির হাওয়া যুবকের পরিবারে।
পরিবার, পুলিস ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৩৩ এর ওই যুবকের নাম হাসানুজ্জামান আলি। তাঁর বাড়ি দৌলতাবাদ থানার নওদাপাড়ায়। ছোট থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল হাসানুজ্জামান। প্রায় দেড় বছর আগে হঠাৎই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় হাসানুজ্জামান। পুলিসে অভিযোগ করেও, তাঁর পাত্তা না পাওয়ায় কার্যত উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন বাড়ির লোকজন। কয়েক দফা অনুসন্ধান চালিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ছড়ানো হলেও, তাঁর খোঁজ মেলেনি। শেষমেষ পরিবারের আশার আলো জোগায় হ্যাম রেডিও। বছর খানেক আগে পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, হাসানুজ্জামান বাংলাদেশে রয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার গোলাবাড়ি স্টেশনের কাছাকাছি একটি সমাজসেবী সংস্থার সদস্যদের তত্ত্বাবধানে তাঁকে রাখা হয়েছে। এরপরই ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন পরিবার। এরপর থেকেই তাঁকে ফেরানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।
বাবা আশরাফ আলি মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নাজমুল হকের সহায়তায় জেলা প্রশাসন, ব্লক উন্নয়ন অফিসার এবং বিএসএফকে লিখিতভাবে জানিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতি ও মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বিষয়টি ত্বরান্বিত করা হয়। ধাপে ধাপে কাগজ ও আবেদন জমা পড়ার পর উচ্চপর্যায় থেকে ওই যুবককে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন বিকেলে সমস্ত নিয়ম মেনে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বিএসএফের ৭৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের হাতে হাসানুজ্জামানকে তুলে দেয় বিজিবি। পরে নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতিতে বিএসএফ থেকে রানিনগর থানার পুলিসের মাধ্যমে দৌলতাবাদ থানার পুলিস ও ওই যুবকের পরিবারের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। যুবকের পরিবারের এক সদস্য বলেন, অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর আমরা হাসানুজ্জামানকে পেলাম। জীবনে যেন স্বস্তি ফিরে এল। পুলিস, বিএসএফ ও বিজিবি ও এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। মদনপুর পঞ্চায়েত প্রধান নাজমুল হক হলেন, দীর্ঘ কাঠখড় পোড়ানোর পর অবশেষে ছেলেটা বাড়ি ফিরল। খুবই আনন্দ হচ্ছে।