নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত প্রায় দু’মাস ধরে কলকাতাসহ রাজ্যের ১৩টি পুরসভা এলাকায় বড়ো নির্মাণের কাজ বন্ধ। তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শুরু হয়েছে নির্মীয়মাণ ভবনগুলির সেফটি অডিট। অডিট শেষে ‘গো অ্যাহেড’ ছাড়পত্র মিললে তবেই ফের কাজ শুরু করা যাবে। কলকাতা ও সংলগ্ন ১৩টি পুরসভার জন্য এই নির্দেশ থাকলেও রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থান বুঝে অন্যান্য একাধিক পুরসভা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে এই ধরনের অডিট চালুর উদ্যোগ নেয়। আর তা করতে গিয়ে থমকে গিয়েছে বহু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি। দিনের পর দিন কাজ বন্ধ থাকায় রিয়েল এস্টেট সেক্টর থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায় ধাক্কা খাচ্ছে। একই সঙ্গে কাজ না থাকায় অন্যত্র চলে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। ফ্ল্যাটের জন্য আগাম বুকিং করে রেখেছেন যাঁরা, তাঁরা বুঝতে পারছেন না, যথা সময়ে ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পাবেন কি না। ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বড়ো নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকেও। সূত্রের খবর, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নির্মাণকারীদের থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে মুচলেকা নিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে। কলকাতার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বাকি ১৩টি পুরসভাসহ অন্যান্য যেসব শহরে এই বিধিনিষেধ চালু হয়েছিল, সেখানেও মুচলেকা নিয়ে কাজ শুরুর অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে রাজ্য সরকারের তৈরি করে দেওয়া অডিট কমিটির খোলনলচে বদলে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান পদে আনা হয়েছে পূর্তসচিব অন্তরা আচার্যকে। সমস্ত ফাইল খতিয়ে দেখে দ্রুত নির্মাণে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছেন তিনি। সেক্ষেত্রে শ্রমিক স্বার্থ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ছোটোখাটো বিচ্যুতি থাকলে মুচলেকা (আন্ডারটেকিং) নিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্মাণে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে। কাল, বৃহস্পতিবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আবাসন নির্মাণকারী সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ক্রেডাই’-এর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে সরকারের। সেখানেও এনিয়ে আলোচনা হবে।
জানা গিয়েছে, শুধু কলকাতাতেই ৩৪৪টি ছোটো-বড়ো নির্মাণ রয়েছে অডিট কমিটির স্ক্যানারে। গত দু’মাসে ফিল্ড সার্ভে সেরে, নথিপত্র খতিয়ে দেখে মাত্র ৫৫টি নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ পুনরায় চালুর ছাড়পত্র দেওয়া গিয়েছে। অডিট কমিটির কাজের এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ‘ক্রেডাই’ও। সরকারকে তারাই পরামর্শ দিয়েছিল, প্রয়োজনে ‘আন্ডারটেকিং’ নিয়ে নির্মাণে ছাড়পত্র দেওয়া হোক। সেই দাবি প্রাথমিকভাবে নাকচ হয়ে যায়। এসবের মধ্যে অডিট কমিটির কাজ শেষের সময়সীমা ৩১ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট করা হয়েছে। অডিট কমিটি সূত্রে খবর, নির্মাণে ছাড়পত্র দিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের তোড়জোড় চলছে। কারণ, একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, একই সঙ্গে লোকসান হচ্ছে আবাসন শিল্পেও। কমিটির এক সদস্যের কথায়, ‘শ্রমিকের স্বার্থ এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বহু ক্ষেত্রে নির্মাণভিত্তিক লেবার রেজিস্ট্রেশন করানো ছিল না। স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটির সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কিছু সমস্যাও তৈরি হয়। তাই যেসব নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ শর্ত পূরণ হবে, সেখানে ছোটখাটো ত্রুটি থাকলেও মুচলেকা নিয়ে কাজ চালু করার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হতে পারে।’