Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রভু জগন্নাথের নতুন ঠিকানা

প্রভু জগন্নাথের নতুন ঠিকানা
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার দুপুর তখন দেড়টা। দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে হোমযজ্ঞের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। ১১৬বি জাতীয় সড়কের ধারে সেই ছবি দেখে হাত জড়ে করে বার বার প্রণাম করে যাচ্ছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের দিবাকর সিং ও তাঁর স্ত্রী আরতীদেবী। এ দিনই বাসে চড়ে দীঘায় এসেছেন। ভেবেছিলেন মন্দিরের মধ্যে ঢুকে জগন্নাথ দর্শন করবেন। কিন্তু, নিরাপত্তার কড়াকড়িতে সেটা সম্ভব হয়নি। আরতীদেবী বলেন, প্রভুর মন্দিরে এসে ধন্য মনে করছি। দূর থেকেই ভগবান দর্শন করে খুশি। দীঘা শুরু পর্যটন কেন্দ্র নয়, মঙ্গলবার থেকে দীঘার নতুন পরিচিত তীর্থক্ষেত্র রূপে। দেশপ্রাণ ব্লক থেকে মধুমিতা আচার্য, মাধবী মিশ্র, ভবানী মিশ্র উপোস করে মন্দিরের মূল গেটের সামনে হাজির। এদিন সি-বিচ বেশ ফাঁকা ছিল। বরং জগন্নাথ মন্দিরের সামনে ব্যাপক ভিড় জমেছিল। মধুমিতাদেবী বলেন, এতদিন সমুদ্র দেখতে দীঘায় আসতাম। এবার জগন্নাথ প্রভুর দর্শনে এখানে আসব। এত সুন্দর মন্দির না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না।
মঙ্গলবার দুপুরে মন্দিরের মধ্যে হোমযজ্ঞ চলাকালীন মূল গেটের সামনে শিব সেজে পেশাদার বহুরূপী তৃণাঙ্কুর পাল নাচছিলেন। আর সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানার যাদবপুর গ্রামের তৃণাঙ্কুর এর আগে করোনার সময় করোনা ভাইরাসের আদলে সং সেজেছিল। ডেঙ্গু নিয়ে সচেনতায় ডেঙ্গু ভাইরাসের সং সেজেছিল। এদিন তৃণাঙ্কুর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘায় জগন্নাথ প্রভুর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করছেন। এটা জানার পর থে঩কেই এখানে আসার জন্য মুখিয়েছিলাম। এখানে এসে ভীষণ ভালো লাগছে। এবার থেকে জগন্নাথ ভক্তরাও দীঘায় ভিড় করবেন।
প্রকৃত অর্থে, এবার থেকে দীঘা শুধুমাত্র পর্যটন কেন্দ্র নয়, তীর্থক্ষেত্রও। মহাযজ্ঞ উপলক্ষ্যে রাজ্যের নানাপ্রান্ত থেকে জগন্নাথ ভক্তরা শামিল হয়েছিলেন। ভেতরে ঢোকার অনুমতি ছিল না। কিন্তু, বাইরে দাঁড়িয়ে ভক্তিভরে এলইডি স্ক্রিনে হোমযজ্ঞ দেখেছেন। তমলুক শহরের ধারিন্দা অম্বিকেশ্বর মন্দির থেকে ভক্ত সুভাষচন্দ্র দাস ও মদন দাস গেরুয়া পোশাকে দীথায় জগন্নাথ দর্শনে এসেছিলেন। তাঁরা বলেন, এবার থেকে দীঘায় নিয়মিত আসব। দীঘা এবার থেকে তীর্থস্থানও। মুখ্যমন্ত্রী এত সুন্দর মন্দির উপহার দিয়েছেন তা না দেখলে বিশ্বাস হত না। ভগবানপুর থানার খাগা গ্রাম থেকে গুরুপদ প্রামাণিক ও সবিতা প্রামাণিক প্রথমবারের জন্য দীঘায় এসেছেন। জগন্নাথ ভক্ত ওই দম্পতি বলেন, জগন্নাথদেবের আগমন উপলক্ষ্যে আমাদের দীঘায় আসা হল। হাজার হাজার জগন্নাথ ভক্তের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা বহু বছর ধরে মানুষ মনে রাখবেন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের অন্যতম সেবক রাজেশ দ্বৈতাপতি ২৩ এপ্রিল থেকে দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের পুজোআচ্চা এবং যজ্ঞে যুক্ত আছেন। প্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদ, আমাদের সকলের আশীর্বাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আছে। প্রভুর আশীর্বাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজ্যে ক্ষমতায় আসবেন। এই মন্দির স্থাপন নিয়ে যুগে যুগে মানুষের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম থাকবে। যারা এনিয়ে বিরোধিতা করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলব, প্রভুকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না।                                 

Advertisement

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ