পুরী: কঠোর নিরাপত্তা। কিন্তু চরম বিশৃঙ্খলা। এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল পুরীর রথযাত্রা। ভিড়ের চাপে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন অন্তত ৬০০। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে জগন্নাথদেবের রথ নান্দীঘোষ কার্যত যাত্রা শুরুই করতে পারল না। কোনওরকমে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ নাগাদ জগন্নাথদেবের রথের রশিতে টান দেওয়া হয়। ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন অবশ্য জানিয়েছেন, তেমন কোনও বড় ঘটনা এটা নয়। পরের দিন ফের রথ টানাও কোন নতুন বিষয় নয়। সবকিছুই এদিন রীতি মেনে হয়েছে। এদিন কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
কেন এত দেরি? মন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রত্যাশার চেয়ে দেড়গুণ বেশি ভিড় হয়েছিল। সেই ভিড়ের চাপেই রথযাত্রার কর্মসূচি সময়মতো হতে পারেনি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এদিন রীতি মেনেই সোনার ঝাঁটা দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেন পুরীর মহারাজ। সূর্য ডুবে যাওয়ায় রাত ৮টায় রথযাত্রা এদিনের মতো স্থগিত রাখা হয়। শনিবার ফের মাসির বাড়ি গুণ্ডিচার উদ্দেশে রওনা দেবে রথ। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বলরামের রথ তালধ্বজ বালাগান্ডি চকের কাছে আটকে যায়। ওই রথের পিছনে থাকা দেবী সুভদ্রার রথ দর্পদলন পুরী শহরে থেমে যায়। সবার শেষে থাকা জগন্নাথদেবের রথ স্রেফ প্রতীকী যাত্রা করে।
পুরীর রথযাত্রা গোটা বিশ্বে জনপ্রিয়। উৎসবের দিন দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা হাজির হন শ্রীক্ষেত্রে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রীতি মেনে যথাসময়ে ভক্তের মাঝে নামিয়ে আনা হয় জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি। সেবায়েতরা কাঁধে করে মূর্তিগুলি রথে নিয়ে যান। তিনটি আলাদা রথে বসানো হয় তিনটি মূর্তি। এই রীতিকে বলে পাহান্ডি। রথের রশিতে টান দেওয়ার আগে রাস্তা ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করা নিয়ম। আর সেই কাজ করতে হয় স্বয়ং পুরীর মহারাজকে। এবছর সাদা পোশাকে সোনার ঝাড়ু নিয়ে শ্রীমন্দিরে হাজির হয়েছিলেন গজপতি মহারাজ। নিয়ম মেনে প্রথমে রথ, তারপর সামনের রাস্তায় ঝাঁট দেন তিনি। এই নিয়মের নাম ‘ছেরা পাহানরা’। নিয়ম পালনের আসল উদ্দেশ্য জগন্নাথকে সর্বোত্তম রূপে স্বীকার করা। তিনি জগতের নাথ। তার উপরে কারও স্থান হতে পারে না। সে রাজা হোক বা সাধারণ মানুষ। কিন্তু বিষয়টা প্রমাণ করা হবে কীভাবে? ভেবেচিন্তে পণ্ডিতরা বলেন রাজাকে সাধারণ মানুষের মতো কিছু করতে হবে। সেই থেকে রথের সামনে রাজার রাস্তা ঝাঁট দেওয়ার নিয়ম। ভক্তিভরে সেই রীতি পালন করে আসছেন রাজার বংশধররা।