নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাজা নেই, নেই রাজপাটও। তবে হেতমপুর রাজ পরিবারের ঐতিহ্য আজও অমলিন। এখনও রথের দিন হেতমপুরে ইংল্যন্ড থেকে নিয়ে আসা পিতলের রথ বের হয়। তবে বর্তমানে রথটি হেতমপুর গৌড়ীয় মঠের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে গৌড়ীয় মঠের তত্ত্বাবধানেই ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি ওই রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে রথযাত্রার আয়োজন হয়। তবে এবছর, রাজ পরিবারের সদস্যদের দাবি মোতাবেক, ঐতিহ্যবাহী রথে সওয়ার হবেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুও। হেতমপুর রাজ পরিবারের প্রতিনিধি রুদ্রপ্রসাদ রায় বলেন, এবছর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পাশাপাশি গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুও রথে চাপবেন। আমাদের বহুদিনের মনের আশা পূরণ হতে চলেছে।
মহারাজা রামরঞ্জন চক্রবর্তীর স্ত্রী পদ্মসুন্দরীর হাত ধরে দুবরাজপুর ব্লকের হেতমপুরে গৌরাঙ্গ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ওই মন্দির থেকেই রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী পিতলের রথে চেপে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সহ নিত্যানন্দ ও অদ্বৈত স্বামী হেতমপুরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমার মাঝেই রাধাবল্লভ মন্দির চত্বরে পৌঁছতেন। তবে একটা সময় পালা বদল হয়। রাজা মাধবীরঞ্জন চক্রবর্তী ও সুরঞ্জন চক্রবর্তী কিছুটা বাধ্য হয়েই গৌড়ীয় মঠের হাতে রথ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন। সেইসঙ্গে গৌরাঙ্গ মন্দিরের দায়িত্বও তুলে দেওয়া হয় মঠ কর্তৃপক্ষের হাতে। এরপর থেকেই কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ভাবনায় রথ পরিচালনা শুরু করে। তখন থেকেই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বদলে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ রথে চাপানো হয়। যা নিয়ে রাজ পরিবার ও মঠ কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতানৈক্য চলতে থাকে। তবে দীর্ঘ প্রায় এক দশকের বেশি সময় বাদে ফের পুরনো ঐতিহ্য ফিরতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণের উন্মাদনা তুঙ্গে।
রাজ আমলে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে যাত্রা, নাটক, কবিগানের আসর ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো। সেইসঙ্গে মেলা বসত। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসত মেলায়। রথের দিন রাজবাড়ির দরজা সকলের জন্য খুলে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেসব অতীত। বর্তমান সময়ে পিতলের ওই রথ সারা বছরই রাজবাড়ি চত্বরে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা থাকে। রথযাত্রার প্রাক্কালে সেটি গৌরাঙ্গ মন্দির চত্বরে পৌঁছে যায়। সাজিয়ে তোলা হয় ঐতিহ্যবাহী রথ। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তবে এবছর ফের রথে চাপবেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। গৌড়ীয় সমিতির সম্পাদক ভক্তি বারিধি ত্রিদণ্ডী মহারাজ বলেন, নিয়ম মেনে আমরা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ নিয়ে রথযাত্রায় শামিল হতাম। তবে এবছর রাজবাড়ির দাবি মেনে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বিগ্রহও রথে চাপানো হবে।
দুবরাজপুরের গৌরাঙ্গ মঠের পিতলের রথ।-নিজস্ব চিত্র