Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪০০ ভরি সোনার গয়নায় সাজলেন নবদ্বীপের ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু

শনিবার ঝুলন উৎসবের শেষদিনে প্রায় ৪০০ভরি সোনার গয়নায় নবদ্বীপের ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে সাজানো হয়। এদিন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রাজবেশ পরানো হয়েছিল।

৪০০ ভরি সোনার গয়নায় সাজলেন নবদ্বীপের ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শনিবার ঝুলন উৎসবের শেষদিনে প্রায় ৪০০ভরি সোনার গয়নায় নবদ্বীপের ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে সাজানো হয়। এদিন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রাজবেশ পরানো হয়েছিল। মাথায় মোহনচূড়া, গলায় সোনার চিক, গৌরাঙ্গ হার, মকর মালা, ময়ূর হার, প্রজাপতি হার পরানো হয়। সেইসঙ্গে সোনার কানপাশা, হাতে বালা, বাজু, পায়ে নূপুর প্রভৃতি পরানো হয়েছিল। হাতে দেওয়া হয় রুপোর রাজদণ্ড।

Advertisement

পূর্ণিমার সকাল থেকে অসংখ্য ভক্ত ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে ভিড় করেছিলেন। সেখানে হিন্দোল কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিপদ থেকে প্রথা মেনে এই মন্দিরে এক পক্ষকালব্যাপী ঝুলন উৎসব শুরু হয়েছিল। পূর্ণিমা থাকা পর্যন্ত গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রুপোর সিংহাসনে দোলানো হয়। এদিন সকালে ভোগ হিসেবে ক্ষীরের নানারকমের মিষ্টি দেওয়া হয়। দুপুরে পঞ্চব্যঞ্জন সহ অন্নভোগ দেওয়া হয়েছিল। বিকেলে ছানা, মিষ্টি ও রাতে লুচি, মালপোয়া, তালের বড়া, পিঠে, নাড়ু, ক্ষীর ও মিষ্টি দেওয়া হয়েছিল। পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হয়।
নবদ্বীপ বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি তথা মন্দিরের অন্যতম সেবাইত সুদিনকুমার গোস্বামী বলেন, রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। হিন্দোলযাত্রা রূপে এক পক্ষকাল ধরে ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরে এই উৎসব হয়। শ্রীকৃষ্ণের ঝুলনযাত্রার আগেই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঝুলন শুরু হয়। প্রতিপদ থেকে ঝুলনপূর্ণিমা পর্যন্ত গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রুপোর সিংহাসনে দোলানো হয়। একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত উৎসবের শেষ পাঁচদিন রোজ মহাপ্রভুকে নিত্যনতুন পোশাক পরানো হয়েছিল। ঝুলনের শেষদিন প্রভুকে রাজবেশ পরানো হয়। রাতে ঝুলনকীর্তন হয়। এদিন নবদ্বীপের গানতলা রোডে বলদেব জিউ মন্দিরে সাড়ম্বরে বলদেবচন্দ্রের আবির্ভাবতিথি উদ্‌যাপিত হল। বৈষ্ণবমতে ঝুলনপূর্ণিমার তিথি ধরে বলদেবচন্দ্রের আবির্ভাবতিথি উদযাপিত হয়ে আসছে। মন্দিরের অন্যতম সেবাইত কিশোরকৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, আবির্ভাবতিথি উপলক্ষ্যে বলদেবচন্দ্রের বিগ্রহ নতুন পোশাক ও সোনার অলঙ্কারে ভূষিত করা হয়। সোনার চূড়া, সোনার হার পরানো হয়। হাতে দেওয়া হয় সোনার সিংগা, সোনার লাঠি। রুপোর সিংহাসনে তাঁকে দোলানো হয়। এদিন সকালে বলদেবচন্দ্রকে পঞ্চগব্য দিয়ে স্নান করানো হয়। তারপর অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছে। মধ্যাহ্নে রুপোর থালায় পিঠেপুলি ও বিভিন্ন পদ সহ ভোগ নিবেদন করা হয়। মন্দিরে উদয়াস্ত নামযজ্ঞ চলে। অসংখ্য ভক্ত এদিন ভোর থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ