মধুর সমাপ্তিই সকলের আকাঙ্ক্ষা। বিধানসভা নির্বাচনেও প্রত্যাশা পশ্চিমবঙ্গবাসীর। আজ, সোমবার সেই বিশেষ দিন। হবে ভোটগণনা। প্রকাশ পাবে দু-দফা ভোটের ফলাফল। বাংলা দেখেছে বেনজির, অবাঞ্ছিত এসআইআর। তাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার, ম্লান হয়েছে বৃহত্তম গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সেই ধাক্কায় পুরো দাঁড়ি পড়েনি এখনো। তারই মাঝে সাঙ্গ হয়েছে দু-দফায় ভোটগ্রহণ। ভোট নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র তো বটেই, অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। তারপরেও বিজেপি অভিযোগের আঙুল তুলেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড মডেলের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, ফলতা, মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ডহারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বহু বুথে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেননি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ইসিআই শেষোক্ত দুটি কেন্দ্রের মোট ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানায়। সেইমতো শনিবার মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি এবং ডায়মন্ডহারবারের চারটি বুথে ফের ভোট নেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, শনিবার বহু মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বঞ্চিত হয়েছেন। কারণ তাঁরা ২৯ এপ্রিল স্বাভাবিক নিয়মে ভোট দিয়েছেন। কল্পনাও করেননি যে আবার নতুন করে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে তাঁদের। পরিযায়ী শ্রমিকসহ কিছু মানুষ ভোট দিয়েই তাঁদের দূরবর্তী কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছেন। অর্থাৎ এত কাণ্ডের পরেও বঞ্চনা সেই রয়েই গেল! অন্যদিকে, ফলতা কেন্দ্রে গৃহীত ভোটের পুরোটাই বাতিল করেছে ইসিআই। সেখানকার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোট নেওয়া হবে ২১ মে। ভারতের নির্বাচনের ইতিহাসে এ এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। জ্ঞানেশ কুমারের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় বজ্র আঁটুনি যে ফসকা গেরো মাত্র, তার প্রমাণ তিনি নিজেই দিলেন এবং অতিদ্রুত। বহু প্রশংসিত ডায়মন্ড মডেলকে কালিমালিপ্ত করার এই অপপ্রয়াসে আসলেই মুখ পুড়ল জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর ‘সিংঘম’ অজয় পাল শর্মার!


