Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মধুর সমাপ্তির আকাঙ্ক্ষা

মধুর সমাপ্তিই সকলের আকাঙ্ক্ষা। বিধানসভা নির্বাচনেও প্রত্যাশা পশ্চিমবঙ্গবাসীর। আজ, সোমবার সেই বিশেষ দিন। হবে ভোটগণনা। প্রকাশ পাবে দু-দফা ভোটের ফলাফল।

মধুর সমাপ্তির আকাঙ্ক্ষা
  • ৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০

মধুর সমাপ্তিই সকলের আকাঙ্ক্ষা। বিধানসভা নির্বাচনেও প্রত্যাশা পশ্চিমবঙ্গবাসীর। আজ, সোমবার সেই বিশেষ দিন। হবে ভোটগণনা। প্রকাশ পাবে দু-দফা ভোটের ফলাফল। বাংলা দেখেছে বেনজির, অবাঞ্ছিত এসআইআর। তাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার, ম্লান হয়েছে বৃহত্তম গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সেই ধাক্কায় পুরো দাঁড়ি পড়েনি এখনো। তারই মাঝে সাঙ্গ হয়েছে দু-দফায় ভোটগ্রহণ। ভোট নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র তো বটেই, অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। তারপরেও বিজেপি অভিযোগের আঙুল তুলেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড মডেলের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, ফলতা, মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ডহারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বহু বুথে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেননি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ইসিআই শেষোক্ত দুটি কেন্দ্রের মোট ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানায়। সেইমতো শনিবার মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি এবং ডায়মন্ডহারবারের চারটি বুথে ফের ভোট নেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, শনিবার বহু মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বঞ্চিত হয়েছেন। কারণ তাঁরা ২৯ এপ্রিল স্বাভাবিক নিয়মে ভোট দিয়েছেন। কল্পনাও করেননি যে আবার নতুন করে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে তাঁদের। পরিযায়ী‌ শ্রমিকসহ কিছু মানুষ ভোট দিয়েই তাঁদের দূরবর্তী কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছেন। অর্থাৎ এত কাণ্ডের পরেও বঞ্চনা সেই রয়েই গেল! অন্যদিকে, ফলতা কেন্দ্রে গৃহীত ভোটের পুরোটাই বাতিল করেছে ইসিআই। সেখানকার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোট নেওয়া হবে ২১ মে। ভারতের নির্বাচনের ইতিহাসে এ এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। জ্ঞানেশ কুমারের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় বজ্র আঁটুনি যে ফসকা গেরো মাত্র, তার প্রমাণ তিনি নিজেই দিলেন এবং অতিদ্রুত। বহু প্রশংসিত ডায়মন্ড মডেলকে কালিমালিপ্ত করার এই অপপ্রয়াসে আসলেই মুখ পুড়ল জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর ‘সিংঘম’ অজয় পাল শর্মার! 

Advertisement

এদিকে, ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের পর কেটেছে চারদিনের বিরাম পর্ব। যাই হোক, আজ ভোটগণনা ফলতাকে বাদ রেখে, রাজ্যের ২৯৩টি আসনে। কাউন্টিং হবে মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে। ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতে না মিটতেই শাসক এবং বিরোধী উভয় পক্ষই রণং দেহি মেজাজে মুখোমুখি। তাই অশান্তির আশঙ্কা পদে পদে। এই গণনা পর্ব যাতে শান্তিপূর্ণভাবে মেটে। প্রতিটি বৈধ ভোট যেন যথাযথ মর্যাদা পায়। মানুষের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলনই যেন প্রকাশিত হয় ফলাফলে। এই প্রত্যাশা গোটা সমাজের। রাজ্যের মানুষ চান, গণনায় যেন কোনোরকম কারচুপি না-হয়। পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে গণনাই ভোটগ্রহণের যাথার্থ্য তুলে ধরতে পারে। বাংলার মানুষ দু-হাত তুলে যে দলকে আশীর্বাদ করেছে জিতবে তারাই। আমরা আশা করব, জয়ের আবেগ যেন তাৎক্ষণিকভাবে হিংসার রূপ কোথাও না নেয়। তাতে জয়ের মাহাত্ম্য, আনন্দ মাটি হয়ে যেতে পারে। 
ভোটে জয়, পরাজয় দুটিই সত্য। মানুষের রায় মেনে নিতে হবে খোলা মনে। মানুষ ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শনের এটাই পথ। ‘গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব’ কথাটি অর্থবহ এই সংস্কৃতির ভিতরেই। গণতন্ত্রপ্রিয় বাংলার মানুষ ভোটপাগল।‌ বাংলার সংস্কৃতি অনুযায়ী এবারও বাজারে হাজির আবির আর মিষ্টির পসরা। মিষ্টিমুখ নিয়ে তো গবেষণা হয়েছে রীতিমতো। আশা থাকবে, নিছক ক্ষমতার মোহ পেয়ে বসবে না, রাজ্যবাসীর এই আনন্দ এই আবেগের মূল্য দিতে ভুলে যাবেন না রাজনীতির কারবারিরা। আর দেখতে হবে, ভোট মিটতেই মানুষ যেন উপেক্ষার পাত্র না-হয়ে যায়। কার্যোদ্ধারের পরেও যেন তাঁরা ‘কাজি’ বা গুরুত্বপূর্ণ রয়ে যান সরকারের কাছে। হঠাৎ যেন পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস (এলপিজি) প্রভৃতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অগ্নিমূল্য না-হয়ে যায় মোদি সরকারের হাতযশে! মনে এই কু-ডাকার কারণ, ভারতবাসী মাত্রই ‘ঘর পোড়া গোরু’, তাঁরা সিঁদুরে মেঘ কম দেখেননি!

সম্পর্কিত সংবাদ