নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শনিবার জিটি রোড সংলগ্ন মধ্য হাওড়ার অতীন্দ্র মুখার্জি লেনের মূল নিকাশি নালা আচমকাই আটকে যাওয়ায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে ফজিরবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা। হাঁটুসমান জল ঠেলে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে বাধ্য হয় পরীক্ষার্থীরা। পরে পুরসভার তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিকাশি পরিষ্কার করে জল নামানো হলেও, এক দশকের জলযন্ত্রণা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কার না হলে ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই গভীর নিকাশি ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। প্রায় একশো বছরেরও বেশি আগে ফজিরবাজারের উমাচরণ বোস লেন থেকে গঙ্গা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই নিকাশি নালা নির্মাণ করা হয়েছিল। অতীন্দ্র মুখার্জি লেন, রসিকলাল ব্যানার্জি লেন, জেলিয়াপাড়া সহ অন্তত চারটি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা আজও এই নিকাশির উপর নির্ভরশীল। নিকাশির উপর দিয়েই গিয়েছে জি টি রোড ও ফোরশোর রোড। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাম আমলে নিকাশির উপর জিটি রোডের ধারে একের পর এক বেআইনি বহুতল আবাসন নির্মাণ করা হয়। ব্রিটিশ যুগের এই গুরুত্বপূর্ণ নিকাশির রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই ২০১১ সালে মধ্য হাওড়ার একাধিক ওয়ার্ড ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয়। হাওড়া কর্পোরেশনের তৎকালীন কমিশনার মমতা জয়সওয়াল নিকাশির পূর্ণ সংস্কার করালেও তারপর থেকে আর কোনও বড় সংস্কারের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।
ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ নিকাশি আটকে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নিকাশি থেকে পলি তোলা (ডিসিল্টিং) হয়ই না। শুধু উপরিভাগের আবর্জনা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার অম্বিকা হিন্দু স্কুলের সামনে নিকাশি থেকে কয়েক টন প্লাস্টিকজাত বর্জ্য তোলেন পুরসভার সাফাইকর্মীরা। এদিকে, এলাকার রাস্তার ধারে বোর্ডে সরকারি প্রকল্পের নামে ৭ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ড্রেন তৈরির কাজ দেখানো রয়েছে। অথচ বাস্তবে তার কোনও সুফল মেলেনি বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের দাবি, ১০ ফুট চওড়া রাস্তার দু’পাশে মাত্র দু’টি সংকীর্ণ নালা জুড়েই কাজ সেরেছে কর্তৃপক্ষ। বেআইনি নির্মাণের নীচে থাকা এই নিকাশি পরিষ্কার করতে আধুনিক প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও ধন্দে রয়েছে পুরসভা। যদিও হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, নিকাশি সংস্কারের বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে। নিজস্ব চিত্র