Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলমহলে নীলকণ্ঠ পাখিকে ঘিরে টিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা। মাঠের ধারে দুলছে কাশফুল। তারই মাঝে নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে নীলকণ্ঠপাখি

জঙ্গলমহলে নীলকণ্ঠ পাখিকে ঘিরে টিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা। মাঠের ধারে দুলছে কাশফুল। তারই মাঝে নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে নীলকণ্ঠপাখি। জঙ্গলমহলে নীলকণ্ঠকে ঘিরে রয়েছে দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি।

Advertisement

জঙ্গলমহলে নীলকণ্ঠের পালক কুড়িয়ে বাড়িতে এনে রাখার রীতি রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বাড়ির মহিলারা তুলসীতলায় ছড়া কেটে বলেন, ‘‘নীলকণ্ঠ তুমি নীল থেক, দুধভাত খেও, আমাদের কথা শিবকে জানিও।’’ ঘরের কুলঙ্গিতে যত্ন করে রাখা হয় নীলকণ্ঠের পালক। অনেকের বিশ্বাস, ঘরে এই পালক রাখলে ধনসম্পদ বাড়ে, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। ছোট ছেলেমেয়েরা বইয়ের পাতার মধ্যে রাখে পাখির পালক। জঙ্গলমহলে  মানুষের কাছে নীলকণ্ঠ শুভ পাখি। নীলকণ্ঠ পাখিকে দেখতে পাওয়া সৌভাগ্যের লক্ষণ বলে মনে করা হয়।  গোপীবল্লভপুর, বিনপুর ও জামবনী ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় এই পাখির দেখা বেশি মেলে।  কৃষক বন্ধু নামেও নীলকন্ঠর আলাদা পরিচিত রয়েছে। জমির ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ এরা খেয়ে নেয়। অরণ্যভূমি এলাকায় নীলকন্ঠ পাখি ধরতে এলে স্থানীয় মানুষ বাঁধা দেন। যারজেরে নীলকন্ঠ পাখি এখানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। জেলার পাখিবিশেষজ্ঞদের মত, নীলকণ্ঠ পাখির প্রজননকাল মার্চ থেকে জুন মাস। স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে পুরুষ নীলকণ্ঠপাখিকে এই সময়ে আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। বর্ষা ঋতুর পর সেপ্টেম্বর ও  অক্টোবর মাসে পুরুষ ও স্ত্রী নীলকন্ঠ নতুন করে বাসা বাঁধা ও খাবার সন্ধানে আকাশে ডানা মেলে। নীলকণ্ঠর চোখের পাশ ও কাঁধে নীল রং, শরীরে গোলাপি আভাযুক্ত বাদামি পালক দেখা যায়। আশ্বিন মাসে উড়ন্ত অবস্থায় ডানা ও লেজের উজ্জ্বল নীল রং আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পর্যটন একটা বড় অংশ আকাশে নীলকন্ঠ পাখি উড়তে দেখার জন্যও ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসেন। রাজ্যের নানা প্রান্তের ফটোগ্রাফারদেরও এই  জেলায় ভিড় জমে। জেলার পশুপাখি বিশেষজ্ঞ গৌতম পান্ডা বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজয়া দশমীর সময় নীলকণ্ঠ ওড়ানোর রেওয়াজ রয়েছে। ঝাড়গ্রামে অবশ্য এই রেওয়াজ খুব একটা দেখা যায়না। বরং এই জেলার সংস্কৃতি ও স্থানীয় লোকাচারে পাখিটির প্রতি মানুষের আলাদা টান রয়েছে। শহরের বাসিন্দা সুকান্ত রায় বলেন , ঝাড়গ্রামের প্রাচীন রাজবাড়ীগুলোতে দুর্গা পুজো হয়। কিন্তু এখানে নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানোর রেওয়াজ দেখা যায়না । নীলকণ্ঠ পাখিকে ঘিরে ভিন্ন এক পৌরাণিক কাহিনি  ছড়িয়ে রয়েছে। নীলকণ্ঠ দর্শনের পর রামচন্দ্র রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন। লঙ্কা জয় করার পর ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে রাম ও লক্ষ্মণ শিবের আরাধনা করেছিলেন। সেই সময় শিব নীলকণ্ঠ পাখির রূপে মর্ত্যে এসেছিলেন। সম্ভবত এই প্রচলিত কাহিনীর কারণে আকাশে নীলকন্ঠ দেখলে শুভ কিছুর বার্তা বয়ে আসছে বলে মনে করা হয়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ