সংবাদদাতা, কাটোয়া: গুসকরা শহরে অর্ধনির্মিত মার্কেট কমপ্লেক্সটির এবার সংস্কার করবে পুরসভা। ন’বছর ধরে পড়ে থাকা অর্ধনির্মিত মার্কেট কমপ্লেক্স নতুন রূপ পাবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে তা বিলিও করা হবে। নতুন মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ অর্ধেক করায় ক্ষোভ বাড়ছিল বাসিন্দাদের। নির্মীয়মাণ শেডের নীচে অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ শেষ হলে বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। গুসকরা পুরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, ওটা সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছিল। আসলে যে জায়গায় মার্কেট কমপ্লেক্সটি তৈরি হয়েছে, সেটা গুসকরা শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত। ওই মার্কেট কমপ্লেক্স আমরা নতুনভাবে সংস্কার করে তা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিলি করব। তাতে পুরসভারও আয় বাড়বে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গুসকরা শহরের রটন্তী কালীতলা এলাকায় ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে ৩০ লক্ষের কিছু বেশি টাকায় একটি মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ার কাজ শুরু করে পুরসভা। সেখানে কয়েকটি পিলার দিয়ে শেড করা হয়। পরবর্তীকালে ওই শেডগুলিতে আলাদা দেওয়াল তৈরি করে দিলেই মার্কেট কমপ্লেক্স হয়ে যেত। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই শেডগুলিই তৈরি হয়ে পড়ে আছে। এখনও মার্কেট কমপ্লেক্স পুরোপুরি তৈরি হয়নি। চালু হওয়া তো দৃরঅস্ত। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিলি করাই হয়নি। সেই শহরের একমাত্র সব্জি বাজারেই গুঁতোগুঁতি করে ব্যবায়ায়ীদের বসতে হয়। বেশ কিছু ব্যবসায়ী বলেন, গুসকরা শহরের ভিতরে ওই মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে উঠলে সবার উপকার হতো। কিন্তু যে এলাকায় মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে, সেটা শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে। ওখানে সেরকম বসতি নেই। তাই বিক্রি নিয়ে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই কেউ ওখানে যেতে চাইছেন না। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সরকারি প্রকল্পে বেশকিছু টাকা পড়েছিল পুরসভার তহবিলে। ওই টাকায় রিকশ স্ট্যান্ড ও মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ার কথা ছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সরকারি দপ্তর থেকে পড়ে থাকা টাকা সুদ সমেত ফেরত চাওয়া হয় পুরসভাকে। ঠিক তখনই তড়িঘড়ি তৎকালীন পুরবোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়। তিনটি রিকশ স্ট্যান্ড ও একটি মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ার কাজ ২০১৫ সালেই শুরু হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে পুরসভা নতুন করে টাকা না পাওয়ায় কাজ অর্ধসমাপ্তই রাখতে বাধ্য হয়। কারণ সেই সময় যত পরিমাণ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, পরে কাজ করতে গিয়ে তখন বাজারদরও বেড়ে যায়। তাই নতুন মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ার কাজ বিশ বাঁও জলে চলে যায়। বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে ওইরকম এলাকায় মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল। শহরের হাটতলা এলাকায় একমাত্র পুরনো সব্জি মার্কেটটি এখন বেহাল অবস্থা। ওই পয়সা দিয়ে পুরনো সব্জি মার্কেট সংস্কার করলে ব্যবসায়ীদের উপকার হতো। তাছাড়া ওখানেই পুরসভার নিজস্ব জায়গা ছিল। সেখানেই আরেকটি মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে উঠতে পারত। তবে নতুনভাবে সংস্কার করে মার্কেট কমপ্লেক্স চালু হলে রটন্তী কালীতলা এলাকা জমজমাট হবে। তাছাড়া এখানে পর্যটকরা আসেন। তাই পুরসভা ভাবছে, ওই এলাকায় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার জন্য ঘর বিলি করা হবে।