নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভূমিকম্পের উত্সস্থল ছিল মায়ানমারের ইয়াঙ্গন শহর থেকে ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ভূ-পৃষ্ঠের ২৭ কিলোমিটার গভীরে। ওই স্থানটি কলকাতা শহর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দূরে। প্রশ্ন উঠছে, এত দূরে ভূমিকম্পের উৎকেন্দ্র হওয়ার পরেও কেন কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় বড়সড় ঝাঁকুনি অনুভূত হল? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর জন্য দায়ী কলকাতা শহরের মাটি ও সেই মাটির উপর তৈরি বহুতল।
মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬। তারপর ৯টা বেজে ২১ মিনিটে ইয়াঙ্গন থেকে ৮৮ কিমি দূরে আরও একবার ভূমিকম্প হয়। সেখানে রিখটারে মাত্রা ছিল ৫.৩। সরকারি তথ্য বলছে, ৬২০ কিলোমিটার দূরে কলকাতায় ভূমিকম্পের পিজিএ (পিক গ্রাউন্ড অ্যাক্সিলারেশন) ছিল ০.০০৩৪। কিন্তু কলকাতা থেকে অপেক্ষাকৃত কাছে মিজোরামের সাইহা শহর উত্সস্থলের ২৪০ কিমির মধ্যে হলেও সেখানকার পিজিএ ০.০০১৩। আবার চম্পাই শহর ইয়াঙ্গন থেকে ৩৪৭ কিমি দূরে হলেও সেখানে পিজিএ ছিল ০.০০৬৪। ইম্ফল, আগরতলা ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকলেও সেখানকার পিজিএ যথাক্রমে ০.০০০০৮ ও ০.০০০৫। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কলকাতায় এত বেশি হল কেন? ভূতত্ত্ববিদ শিখেন্দ্র দে বলছেন, একটি স্থানে ভূমিকম্পের জন্য সর্বাধিক কম্পনের অভিজ্ঞতাকে পিজিএ বলে অভিহিত করা হয়। পিজিএ’র সূচক বলে দেয়, মাটি কতখানি কেঁপেছে ও ক্ষতি কত হতে পারে। মায়ানমারের ভূমিকম্পের প্রেক্ষিতে কলকাতার পিজিএ কম ছিল দূরত্বের কারণে।
তবুও কলকাতা তা অনুভব করল কারণ, বিশেষত কম ফ্রিকোয়েন্সি সারফেস ওয়েভ অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। যা মাঝারি থেকে বহুতলগুলিতে সহজে অনুভব করা যায়। শিখেন্দ্রবাবুর ব্যাখ্যা, কলকাতার স্থানীয় পরিস্থিতি কম্পনের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ইন্দো-গাঙ্গেয় অববাহিকায় অবস্থিত কলকাতার নরম পলি মাটি ভূমিকম্পকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, পুরুলিয়ার মতো পাথুরে এলাকায় এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে না। তার ফলে কলকাতা সন্নিহিত বহুতলগুলিতে খুব সহজেই কম্পন অনুভূত হয়েছে। সেগুলি রীতিমতো দুলতে থাকে। কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোটো বিল্ডিংগুলিতে সেরকম কম্পন অনুভূত হয় না।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, দূরে উৎসস্থল হলেও নরম পলিমাটির মোটা আস্তরণের কারণে বেশি করে কেঁপে উঠেছে। কলকাতায় এই কম্পন অনুভূত হওয়ার মূল কারণ কম ফ্রিকোয়েন্সির সারফেস ওয়েভ। এই ধরনের ওয়েভ মূলত সেইসব জায়গায় অনুভূত হয়, যেখানে বহুতলের সংখ্যা বেশি। নিজস্ব চিত্র