নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিমায় ১০০ শতাংশ বিদেশি লগ্নি আসতে চলেছে। বিমা সংক্রান্ত তিনটি বিল মঙ্গলবার সংসদে পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সংশোধনী বিলের নাম, ‘সবকা বিমা সবকি রক্ষা’ সংশোধনী বিল। বিমা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২৬ শতাংশ থেকে ৪৯ শতাংশ। এরপর ৭৪ শতাংশ। এবার সব রকম বিমায় সরাসরি ১০০ শতাংশ বিদেশি সংস্থার লগ্নির দরজা খোলা হল। এমন সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রীতিমতো স্বদেশি আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বিহার নির্বাচনের প্রচারে মোদি স্বদেশির পক্ষে সওয়াল করেন। এরপর যখনই যে রাজ্যে যাচ্ছেন তিনি আহ্বান করছেন বিদেশি পণ্য বয়কটের। যে পণ্যের সঙ্গে দেশীয় উৎপাদনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক নেই, সেই পণ্যকে ব্যবহার না করার নিদান দিয়েছেন মোদি। সেক্ষেত্রে বিদেশি ব্র্যান্ড কী হবে? মোদির পরামর্শ হল, দেশি অথবা বিদেশি যে ব্র্যান্ড হোক, সেই প্রোডাক্ট ভারতে উৎপাদিত হওয়া দরকার। অথবা কোনও না কোনওভাবে ভারতের উৎপাদন সেক্টর এই পণ্যের মাধ্যমে যেন উপকৃত হয়। অর্থাৎ সরাসরি বিদেশি পণ্য যা আমদানিকৃত, সেই পণ্য বাতিল। যদিও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার শর্তাবলি অনুযায়ী এই নিয়ম চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। কিন্তু মুখে স্বদেশি আন্দোলনের ডাক দেওয়া মোদি সরকারের বিদেশি সংস্থার ভারতীয় বিমা সংস্থা অধিগ্রহণে আপত্তি নেই। একটি মাত্র শর্ত রয়েছে। একজন চেয়ারম্যান অথবা সিইও ভারতীয় হতে হবে। বিলের সপক্ষে বলা হয়েছে বিমাকারী এবং বিমা সংস্থা উভয় পক্ষকেই সুবিধা দেওয়া হবে এই বিলের মাধ্যমে। বিশ্বজুড়ে ১০ হাজারের বেশি বিমা সংস্থা রয়েছে। ভারতের নাগরিকদের সেই সুযোগ মিলবে। যাতে কোন সংস্থা ভালো, কোন সংস্থা খারাপ, বাছাই করতে পারে সাধারণ মানুষ। তবে বিমাকে আর দেশীয় সংস্থায় আবদ্ধ করা হবে না। প্রতিযোগিতার দরজা খুলে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার বিমাক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের প্রবল সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের শতাব্দী রায়। বলেছেন, মুখে দেখান রাষ্ট্র ভক্তি। দেশপ্রেম। অথচ বিমার মতো ক্ষেত্রকে তুলে দিচ্ছেন বিদেশিদের হাতে? সাধারণ নাগরিকের জন্য বিমায় কোনও সুবিধা না দিয়ে বিমা কোম্পানিগুলির সুবিধা করে দিচ্ছে সরকার। এটা জনবিরোধী।