সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকশন প্ল্যানে লোধা শবরদের জন্য তৈরি হওয়া অধিকাংশ ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ভাঙাচোরা বাড়িতে না থেকে পলিথিনের তাঁবু খাটিয়ে মাচার উপর চলছে শিশুদের পড়াশোনা। নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে পানীয় জলের পাম্প। পাড়ায় যাতায়াতের প্রশস্ত রাস্তা নেই। রয়েছে আধার কার্ডের সমস্যা। ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা সহ সমস্ত সরকারি পরিষেবা বঞ্চিত এখানকার বাসিন্দারা। এই সব কিছু মিলে ঝাড়গ্রাম শহরের উপকণ্ঠে মাত্র ৭ কিমি দূরত্বে থাকা শুয়াবাসা (শবর পাড়া) গ্রামের ৩০টিরও বেশি লোধা পরিবারের অসহায়ভাবে দিন কাটছে। সরকার বদলের পর স্থানীয় ব্লক প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কোনো সুরাহা মিলেনি বলে বাসিন্দাদের দাবি।
ঝাড়গ্রাম ব্লকের রাধানগর গ্রামপঞ্চায়েতের শুয়াবাসা গ্রামের শবর পাড়ায় ৩৯টি লোধা শবর পরিবার রয়েছে। কয়েকটি পরিবার ছাড়া বাকিদের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০১১-১২ অর্থবর্ষে ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকশন প্ল্যান থেকে দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে এখানে বেশ কিছু ঘর তৈরি হয়েছিল। এই ঘরগুলির বেশিরভাগ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। অভিযোগ এই আবাস নির্মাণ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। তার তদন্তের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। বাড়িতে থাকা যায় না বলে পলিথিনের ঝুপড়িতে মাচা বেঁধে পড়াশোনা করে এখানকার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী বেলাবতী শবর। তার মা ও দাদার আধার কার্ড নেই। এই গ্রামের লোধা শবরদের নানা অসুবিধা নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় ‘মানবতা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আধার কার্ডের সমস্যা নিয়ে গত ১১ জুন সংশ্লিষ্ট বিডিওর কাছে তারা লিখিত আবেদন জানান। সেই সঙ্গে এই গ্রামে তারা ‘মানবতার আলো’ নামের একটি অবৈতনিক স্কুল চালু করে। এই সংস্থার উদ্যোগে এখানের নাবালিকার বিয়ে রোধ করা হয়। বিয়ে বাতিল করে এই গ্রামের রূপালী শবর এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবেন। তিনি বলেন, ভাঙাচোরা বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করছি। বাবা মা দিন মজুর। ভাইয়ের আধার কার্ড নেই। মানবতার আলো স্কুলের পক্ষ থেকে সুনীল মাহাত, সোমনাথ সিংহ বলেন, এর আগে এখানকার সমস্ত লোধা শবর শিশুরা সকাল হলেই ভিক্ষা করতে বেরিয়ে যেত। নাবালিকাদের বিয়ে দিয়ে দিত পরিবারের লোকজন। স্কুলমুখী করতে এই পাড়ায় একটি বিদ্যালয় চালু করেছি। নাবালিকাদের বিয়ে আটকানো হয়েছে। আমাদের ডাকে বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ এখানে এসেছিলেন। তারপরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখানে অধিকাংশ পরিবারের জীবনযাত্রা একেবারে বিপন্ন। এই নিয়ে বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, ওরা আমাকে একটা লিখিত আবেদন জানান। আমি নিজে ওই গ্রামে উপস্থিত থেকে কর্মসূচি নেব। ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকশন প্ল্যান থেকে লোধাদের জন্য আবাস নির্মাণ নিয়ে দুর্নীতি হয়ে থাকলে তারও তদন্ত হবে। ফলে কালাঝরিয়ার মতো শুয়াবাসাতে লোধাদের জন্য উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ কবে শুরু হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী।



