Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের টিভি চুরি রুখতে দায়িত্ব স্থানীয়দের

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের টিভি চুরি রুখতে দায়িত্ব স্থানীয়দের
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম জেলার প্রায় ১৩০০ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বসছে অত্যাধুনিক টিভি। এই টিভির সাহায্য খুদে পড়ুয়াদের দৃশ্যশ্রাব্য পাঠ দেওয়ার কাজ গতি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলার বহু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খুদেদের আনাগোনা বাড়ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে টিভির নিরাপত্তা নিয়ে। বহুমূল্য টিভি জেলা প্রশাসনের কর্তাদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে টিভিগুলি কতটা সুরক্ষিত তা নিয়ে সংশয়ে খোদ কর্মীরাও। এরই মাঝে জেলার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে টিভি চুরি যাওয়ায় সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, টিভির দেখভাল নিয়ে আমরা উদ্বেগে রয়েছি। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংলগ্ন স্থানীয়দের কাছে আবেদন করা হচ্ছে, তাঁরা যেন টিভির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেন। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদেরও বলা হচ্ছে, তাঁরা যেন স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করে টিভির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আমাদের বিশ্বাস, মানুষ সচেতন হলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে টিভি চুরি আর হবে না। 

Advertisement

জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, বীরভূমে মোট ৫১৯১টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ৩৮৭১টি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে। বাকি ১৩২০টি কেন্দ্রের কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। সেগুলির জন্য জমি খোঁজার কাজ চলছে। মানুষের কাছে জমির জন্য নিয়মিত আবেদনও করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বুনিয়াদি শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে বাছাই করা ১৩০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে টিভি বসানো হচ্ছে। জেলার ১৯ ব্লকের নানা প্রান্তে ইতিমধ্যে বেশকিছু টিভি বসেছে। আরও কিছু টিভি বসানোর কাজ চলছে। তবে এরই মাঝে মহম্মদবাজার ব্লকের খয়রাকুড়িতে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে টিভি চুরি হয়েছিল। সেই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চুরি যাওয়া টিভিটিও উদ্ধার করে। 
টিভি চুরি রুখতে কর্তাদের নির্দেশ মেনে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করছেন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সহ টিভি রক্ষণাবেক্ষণের গুরুদায়িত্ব ওই স্থানীয়দের কাঁধেই তুলে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, প্রতি মাসেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির তরফে স্থানীয়দের নিয়ে এই বৈঠক করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সুমনা দাস বলেন, বেশকিছু দিন আগেই নতুন টিভি বসেছে। 
টিভির নিরাপত্তা নিয়ে আমরা অনেকটাই চিন্তিত ছিলাম। জেলা প্রশাসনের কর্তাদের নির্দেশে আমরা স্থানীয়দের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছি। তাঁরা নিজেদের কাঁধে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ায় আমরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত হতে পেরেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ