সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর পুরসভার জনবহুল এলাকা ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ বন্ধ করতে হবে। তা অন্যত্র করতে হবে। এমনই দাবি তুলে রবিবার ৭ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। এদিন ত্যানজিং গ্রাউন্ড ও মহকুমা স্টেডিয়ামের সামনে বাসিন্দারা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, পুরসভার নোংরা, আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড প্রয়োজন। আগে বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য সরকারের তরফে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, কাজ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। কারণ, পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের অভিযোগ ছিল, পুরসভার নোংরা, আবর্জনা পঞ্চায়েত এলাকায় কেন ফেলা হবে? তাই পুরসভার নিজস্ব জায়গায় নোংরা, আবর্জনা রাখার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। তারপরেও যখন অভিযোগ উঠছে তখন বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে পুরসভা শহরের নোংরা, আবর্জনা ফেলার জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজের জন্য সক্রিয় হয়েছে। শাঁকা, বাবুগ্রাম, আড়রা প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য প্রশাসনের তরফে পুরসভাকে জায়গাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, যতবারই কাজ করতে যাওয়া হয়, ততবারেই স্থানীয়দের বাধায় কাজ ব্যাহত হয়। ফলে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়নি। তাই পুরসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাদের নিজস্ব জায়গায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে তুলবে। সেইমতো ১১ নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার নিজস্ব জায়গায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভে শামিল রাজেশ দাস, বিমান গোস্বামী বলেন, যেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি হচ্ছে, তার প্রায় ১০০ মিটার দূরে ৭ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও রঘুনাথপুর মহকুমা স্টেডিয়াম সহ বহু মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে ওই এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড হলে দূষণ ছড়াবে। যার ফলে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়বেন।
রঘুনাথপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা বলেন, দূষণ সৃষ্টিকারী ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে তোলা ফলে প্রচুর সমস্যা হবে। তাই আমরা বিরোধিতা করছি। আমরা চাই জনমানসহীন ফাঁকা জায়গায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ হোক। প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ স্থানীয়দের। রবিবার তোলা নিজস্ব চিত্র