নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সরকারি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ফের জেসিবি দিয়ে কংসাবতী নদী থেকে বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ায়। মঙ্গলবার সকালে এনিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় পুরুলিয়া-১ ব্লকের গাড়াফুসড় অঞ্চলের কাঁটাবেড়া এলাকায়। এনিয়ে ওই গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ওই সরকারি বালি ঘাটে কর্তব্যরত কর্মীদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। এনিয়ে পুরুলিয়া-১ ব্লকের বিএলএলআরও রুদ্ররূপ ভট্টাচার্য বলেন, জেসিবি দিয়ে বালি তোলার কোনও নিয়ম নেই। আমরা সোমবারও কাঁটাবেড়ার ওই বালিঘাটে তদারকিতে গিয়েছিলাম। কোনওরকম মেশিন দেখতে পাইনি। কিন্তু এদিন সকালে জেসিবি মেশিনে বালি তোলার অভিযোগ পাই। এনিয়ে গ্রামে উত্তেজনাও ছড়ায়। আগামীতে কোনওভাবে যাতে মেশিনে বালি উত্তোলন করা না হয়, সেব্যাপারে আমরা নজর রাখব। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রের খবর, কাঁটাবেড়া এলাকার ওই বালিঘাটটির নতুন করে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কিছুদিন হল ওই বালিঘাট থেকে বালি উত্তোলন শুরু হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই বালি ঘাটের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বাসিন্দাদের দাবি, অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই দিবারাত্রি বালি তোলা হচ্ছে। ওই এলাকা থেকে ২০০ মিটার দূরেই কংসাবতীতে দু’টি জলপ্রকল্প আছে। ওই জলপ্রকল্পের জন্যই আশপাশের গ্রামগুলিতে আজ পানীয় জলের সমস্যা মিটেছে। কিন্তু এভাবে মেশিন দিয়ে বালি তোলা হলে তো আগামী দিনে জলসঙ্কটে পড়বেন গ্রামের বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, বালি বোঝাই গাড়ি যেভাবে গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে চলছে, তাতে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তারও ক্ষতি হতে পারে। এদিন সকালে অবৈধ বালি উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে যান বাসিন্দারা। বালিঘাটে একটি অস্থায়ী অফিস রয়েছে, যেখান থেকে চালান কাটা হয়। সেই অফিসের কর্মীদের ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। আজ বুধবার বালিঘাটের মালিক পক্ষ, পুলিস ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে গ্রামবাসীদের। স্থানীয় ইন্দ্রজিৎ মাহাত বলেন, গ্রামের খেটে খাওয়া গরিব মানুষ যখন নদী থেকে বালি তুলে সাইকেলে, গোরুর গাড়িতে করে আশপাশের গ্রামে বিক্রি করত, তখন পুলিস তাঁদের ধরত। কিন্তু এখন তো জেসিবি দিয়ে বালি লুট হচ্ছে, সেটা কি পুলিস দেখতে পাচ্ছে না? পুলিসের এক আধিকারিক অবশ্য বলেন, নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। পেলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।