সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ডিভিসি কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমানায় পাঞ্চেত জলাধারে মহেশ নদের উপর ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রোজেক্ট করতে চাইছে। সোমবার দুই রাজ্যের সীমানায় ‘জিরো পয়েন্ট’-এ প্রজেক্টের কাজ তারা করতে যায়। আর্থমুভার সহ সোলার পাওয়ার প্রজেক্টের নানা সরঞ্জাম আনা হয়। কিন্তু, দুই রাজ্যের দামোদর ভ্যালি বাস্তুহারা সংগ্রাম সমিতির সদস্যরা ডিভিসি কর্মীদের ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানান। ফলে প্রজেক্টের কাজ থেকে পিছিয়ে আসে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ।
স্বাধীনতার পর ডিভিসি(পাঞ্চেত) কর্তৃপক্ষ দামোদর নদের উপর বাঁধ দিয়ে পাঞ্চেত জলাধার নির্মাণ করে। সেই জলাধারের জলকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ এখন পাঞ্চেত জলাধারের উপর ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রোজেক্ট তৈরি করতে চায়। কিন্তু, সেখানে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে দু’রাজ্যের কয়েকহাজার মানুষ। সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট হলে রুজিরুটি হারানোর আশঙ্কায় তারা কাজে বাধা দিচ্ছে।
ডিভিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, জলধারের উপর পশ্চিমবঙ্গের দিকে ৭৫মেগাওয়াট ও ঝাড়খণ্ডের দিকে ৩০মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মাণকাজ হবে। ইতিমধ্যে প্রোজেক্টের কাজের জন্য মালপত্র আনা হয়েছে। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ তাদের অফিসের সামনে সমতল ভূমিতে বেশ কিছু জায়গায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে।
পাঞ্চেত পাওয়ার প্রোজেক্ট দপ্তরের এইচওপি আরআর শর্মা বলেন, এই প্রকল্প হলে কোনও ক্ষতি হবে না। জলধারের ৫-১০শতাংশ জায়গাজুড়ে কাজ করা হবে।
এদিন আন্দোলনে শামিল ঝাড়খণ্ডের পুতুলদেবী, ভৈরব মণ্ডল, পশ্চিমবঙ্গের বিপ্লব মারাণ্ডি বলেন, ১৯৬৮সালে কেন্দ্রীয় সরকার আদিবাসী ও অন্য বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে জলাধার তৈরি করেছিল। ক্ষতিপূরণ ও কর্মসংস্থানের লোভ দেখানোর পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই কথা রাখা হয়নি। এখন সেসব মানুষ পাঞ্চেত জলাধারে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। সেখানে এই প্রকল্প হলে ওই সমস্ত পরিবার ধ্বংস হবে। তাই এই প্রকল্প বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এলাকার বাসিন্দাদের বিক্ষোভ। -নিজস্ব চিত্র