সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানা এলাকার বাসিন্দাদের লজ্জায় মাথাকাটা যাওয়ার জোগাড়। রামপুরহাটে সপ্তম শ্রেণির আদিবাসী ছাত্রী খুনে জড়িত শিক্ষক মনোজ পাল যে রঘুনাথপুরেরই বাসিন্দা! মনোজের সহপাঠী থেকে শুরু করে গ্রামবাসী, প্রাক্তন ছাত্রীরা ওই জঘন্য কাজের জন্য অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর থানার গদি বেড়ো এলাকার বাসিন্দা মনোজ পাল। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা। তার সহপাঠীদের একাংশ বলেন, স্কুল জীবনে পড়াশোনায় ভালো ছিল। তবে খুব বদমেজাজি। সামান্য বিষয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে মারপিট করত। কলেজে পা দিতেই নানা কুকর্মের দৃষ্টান্ত রাখে। নিজের এক নিকট আত্মীয়ের মেয়েও মনোজের হাত থেকে রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ। তবে পরিবারের সঙ্গে তৎকালীন শাসকদলের ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকায় আপস মীমাংসা হয়ে যায়। যার ফলে একাধিক অপরাধ করেও শাস্তি না হওয়ায় মনোজের সাহস বেড়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে সে কীভাবে ঠান্ডা মাথায় সব সামাল দিতে হয় তা রপ্ত করে ফেলেছিল।
জানা গিয়েছে, ছাত্র জীবনের পাশাপাশি শিক্ষক জীবনেও মনোজের একাধিক কুকর্মের দৃষ্টান্ত রয়েছে। সে সাঁওতালডিহি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিল। সেখানে প্রায় ২০ বছর শিক্ষকতা করে। শিক্ষকতা করার সময়ে এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষিকাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে স্কুলের সামনে এক আবাসনে থাকত। অভিযোগ, প্রায় দিন স্ত্রীকে কারণে অকারণে মারধর করত। আশেপাশের আবাসনের বাসিন্দারা কিছু বললেই ‘পারিবারিক বিষয়’ বলে তাঁদের থামিয়ে দিত। ছেলে হওয়ার পরেও চরিত্রে বদল হয়নি। তার জন্য তিনি তিনবার আবাসন বদল করে। পরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তার প্রাক্তন স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে থাকেন। স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গেও নাকি সে অশ্লীল আচরণ করত বলে অভিযোগ। তার জন্য অভিভাবকরা একাধিকবার বিদ্যালয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি টিউশনও পড়াত। শেখানেও ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করত বলে অভিযোগ।
মনোজের কাছে টিউশন পড়া এক প্রাক্তন ছাত্রী বলেন, তিনি পরিবারের পরিচিত ছিলেন। তাই বিজ্ঞান বিভাগের জন্য টিউশন নিয়েছিলাম। টিউশন পড়ানোর সময় তিনি বেশ কিছু অশ্লীল আচরণ করতেন। আমার পরিবার তার পরিচিত তাই কিছু না বলে টিউশন ছেড়ে দিয়েছিলাম।
এক শিক্ষক বলেন, সাঁওতালডিহি এলাকায় ওই শিক্ষকের প্রচুর কুকর্মের দৃষ্টান্ত রয়েছে। এখানে শিক্ষকতা করার সময়ই একটি অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। বিপদ বুঝে বদলি হয়ে বীরভূমে চলে যায় মনোজ।
সাঁওতালডিহি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ হাজরা বলেন, শিক্ষকের বিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই। কারণ, কোভিডের আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। তারপর করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ২০২২ সালে তিনি বদলি হয়ে চলে যান।
এলাকার বিজেপি বিধায়ক নদিয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, মনোজবাবু শিক্ষকের নামে কলঙ্ক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু বীরভূমের ঘটনার নিন্দার ভাষা নেই। তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। -নিজস্ব চিত্র