নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গ্রামের মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে হাজার হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল একটি ব্যাঙ্কের ‘গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের (সিএসপি) বিরুদ্ধে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই আতঙ্কে প্রহর গুণছেন এলাকার মানুষ। যদিও এ নিয়ে নিরুত্তাপ সংশ্লিষ্ট সিএসপি’র মালিক। ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গা চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের জীবনপুর বাজারে এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সিএসপি চালান মহম্মদ আলি ওরফে লাল্টু। এলাকায় তিনি তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত। কয়েক বছর ধরে চৌরাশি হাইস্কুল লাগোয়া ওই সিএসপিতে মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে টাকা তোলা বা জমা দেওয়া সহ বিভিন্ন দরকারে আসেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে টাকা তোলা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। কারও ৬০ হাজার, কারও ২০ বা ৪০ হাজার টাকা ভুল বুঝিয়ে তুলে নিয়েছেন লাল্টু, এমনটাই অভিযোগ। তাঁর এই কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই টের পাননি গ্রাহকরা। এ নিয়ে প্রতারিত লিপিকা পাল বলেন, আমার আবাস যোজনায় বাড়ির টাকা এসেছে। সেই টাকা তুলতে লাল্টুর সিএসপিতে গিয়েছিলাম জানুয়ারি মাসের ৭, ৯ ও ১০ তারিখে। তিনদিনই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফর্মে সই করিয়ে বলে টাকা নেই। উল্টে বলেছিল, পঞ্চায়েতে গিয়ে যোগাযোগ করতে। সপ্তাহখানেক আগে আমি ব্যাঙ্কে পাশবই আপডেট করতে গিয়ে দেখি জানুয়ারি মাসের ওই তিনদিনে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাঙ্কে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আর এক প্রতারিত শিবানী পাল বলেন, আমার সঙ্গে একইভাবে প্রতারণা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে আমি ব্যাঙ্কে ৫০০ টাকা তোলার জন্য গিয়েছিলাম। ব্যাঙ্কের পাশবই আপডেট করাতে হবে বলে বেশ কয়েকদিন সেটি আটকে রেখেছিল লাল্টু। পরে জানতে পারি, অ্যাকাউন্ট থেকে ৪২ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তাই মূল শাখায় আমি অভিযোগ জানিয়েছি। অন্যদিকে অমরনাথ পাল বলেন, আমাকে ভুল বুঝিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। এর বিচার চাই। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, প্রতারণার অঙ্ক লক্ষাধিক টাকা হতে পারে। এই সিএসপির সৌজন্যে আমরা আগামী দিনে সাইবার প্রতারণার শিকার হব না তো?
এনিয়ে সিএসপির মালিক মহম্মদ আলি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যাঙ্ক তদন্ত করছে। এদিকে, চৌরাশি পঞ্চায়েতের প্রধান বাপ্পা মণ্ডল বলেন, এলাকার মানুষ আমার কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। আমি তাঁদের লিখিত আকারে ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানাতে বলেছি। ওঁরা তাই করেছেন। গ্রামের মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি প্রতারণা করে থাকে, তাঁকে রেওয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ও বিডিওর সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রয়োজনে আমি প্রতারিতদের সঙ্গে নিজে থানায়
যাব। নিজস্ব চিত্র