Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্রমশ বেহাল হচ্ছে শৈলেন মান্না সরণি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের

চলতি বছরের বর্ষাতেই পিচের আস্তরণ সরে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা।

ক্রমশ বেহাল হচ্ছে শৈলেন মান্না সরণি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চলতি বছরের বর্ষাতেই পিচের আস্তরণ সরে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা। পুজোর আগে মাটি ফেলে কোনওমতে খানাখন্দ বোজানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু উৎসব শেষ হতেই ফের মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে হাওড়ার শৈলেন মান্না সরণির একাংশ। তাছাড়া হোমিওপ্যাথি কলেজের সামনে ট্রাফিক সিগন্যাল থাকলেও কেউই তা মানেন না বলে অভিযোগ। ফলে নিত্যদিন সেই অংশে ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটছে। টোটো থেকে পড়ে গিয়ে জখম হচ্ছেন যাত্রীরা। শৈলেন মান্না সরণির সংস্কারের দাবি তুলে রবিবার সকালে পথ অবরোধ করেন এলাকাবাসীরা। পরে পুলিশ এসে আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ ওঠে।

Advertisement

একদিকে জমা জল, অন্যদিকে বেহাল রাস্তা- গত কয়েকবছর ধরে জোড়া যন্ত্রণায় ভুগছেন শৈলেন মান্না সরণি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। চলতি বছরে জমা জলের ভোগান্তি থেকে খানিকটা রেহাই মিললেও রাস্তার বেহাল অবস্থা যেন প্রতিমুহূর্তে আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে শৈলেন মান্না সরণির বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছিল ছোট-বড় গর্ত। চলতি বছরে লাগাতার বৃষ্টিতে সেই সমস্ত খানাখন্দ মরণফাঁদের চেহারা নেয়। বিশেষ করে, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের এইচআইটি আবাসন ও মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সামনের অংশের অবস্থা সব থেকে খারাপ। কোথাও পিচের আস্তরণ সরে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নীচের ইট। কোথাও আবার বসে গিয়েছে কংক্রিটের ব্লক। খানাখন্দ নেই এমন অংশ খুঁজে বের করাই দুষ্কর। পুজোর আগে হাওড়া সিটি পুলিশ মাটি ও ইটের টুকরো ফেলে রাস্তাটির সাময়িক মেরামতি করেছিল। উৎসব মিটতেই রাস্তার ফের একই অবস্থা।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমা জলের ভোগান্তি দূর করার জন্য এইচআইটি কমপ্লেক্সের ভিতরের দিকে তিনটি পাম্প হাউজ তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে মূল পাইপলাইন মাটির নীচ দিয়ে শৈলেন মান্না সরণির একপাশ থেকে অন্যপাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। অথচ খারাপ অংশের সংস্কার আর হয়নি। ওই জায়গাতে একটি ট্রাফিক সিগন্যাল থাকলেও বেপরোয়া বাইক, গাড়িচালকরা তা মানেন না বলে অভিযোগ। পুলিশের তরফেও নেই কড়াকড়ি। ফলে প্রায়ই সাইকেল, টোটো, অটো উল্টে যাচ্ছে। জখম হচ্ছেন আরোহীরা। তার উপর বাড়ছে যানজট সমস্যা। একই অবস্থা নতুন রাস্তার মোড়ের সামনেও।
এদিন সকালে রাস্তা সংস্কারের দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখান ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের একাংশ। চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ এসে তাঁদের বোঝাতে গেলে সাময়িক ধস্তাধস্তি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ভাস্কর চক্রবর্তী বলেন, পুজোর আগে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আমরা পুরসভায় গিয়েছিলাম। সেখান থেকে জানানো হল, রাস্তাটি বর্তমানে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অধীনে। যারই দায়িত্ব থাকুক, দ্রুত সুরাহা না হলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ