সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুরুলিয়া জেলার একমাত্র পাড়া ব্লকে কোনও কলেজ নেই। জেলার প্রতিটি ব্লকে কোথাও জেনারেল কলেজ, কোথাও আইটিআই কলেজ গড়ে উঠেছে। কিন্তু পাড়া ব্লকের ভাগ্যে কোনওটিই জোটেনি। ফলে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরেই ব্লকের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য সমস্যায় পড়তে হয়। তাঁদের ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কলেজে যেতে হয়। ব্লক এলাকার বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর, চাষবাস করে সংসার চালান। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধা, কলেজ যাওয়া আসার খরচ ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েদের মাঝপথেই পড়াশুনা ছাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন। এলাকার মানুষের দাবি ব্লক এলাকায় অন্তত একটি কলেজ গড়ে তোলা হোক। সেই কলেজের দাবিতে এবার ব্লক এলাকার বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর অভিযানে নামতে চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাড়া ব্লকে কলেজ না থাকার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের সাঁওতালডিহির উষিড়, রঘুনাথপুর অথবা পুরুলিয়া শহরের কলেজগুলির উপর নির্ভর করতে হয়। ব্লকের কয়েকটি পঞ্চায়েতের বেশ কিছু গ্রাম ঝাড়খন্ডের সীমানা এলাকায় অবস্থিত। ফলে ওইসব গ্রামের ছেলেমেয়েরা অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য ঝাড়খন্ড রাজ্যের গিয়ে কলেজে পড়াশোনা করেন। তবে কলেজ যেতে হলে ব্লক এলাকার ছেলে-মেয়েদের বাস, অটোর মতো গাড়ি উপর ভরসা করতে হয়। সেক্ষেত্রে কলেজের খরচ বাদ দিয়েও যাতায়াতের জন্য একটি বাড়তি খরচ হয়। এছাড়া অনেক দূরে কলেজ হওয়ার জন্য অনেক অভিভাবক চিন্তিত থাকে। বিশেষ করে ছাত্রীদের পরিবার সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়ে। তাই অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের পড়াশোনা মাঝপথে ছাড়িয়ে দেয়।
প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, পাড়া ব্লকে মোট ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। মোট ১১৮ টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম আছে। এছাড়া রেল শহর আনাড়া, ঝাপড়া, পাড়া, দুবড়ার মতো বাজার রয়েছে। ব্লক এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনজাতির বসবাস। পরিসংখ্যান অনুসারে এখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ তফসিলি জাতি, ৬ শতাংশ তফসিলি উপজাতি এবং ১৯ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।
ব্লক এলাকার বাসিন্দা অমিত বাউরি, নবীন মাহাত, নিতাই চন্দ্র কর্মকার বলেন, পাড়াতে কোনও কলেজ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক অসুবিধায় পড়ে। তাই কলেজের দাবিতে আন্দোলন শুরু করছি। ব্লক এলাকার ছেলেমেয়েরা কেন বঞ্চিত হবে। কলেজের দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান দিয়ে শুরু করে মিটিং, সভা, মিছিল করা হবে। ব্লক প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে পাড়াতে মহিলা কলেজ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে একটি জমির মাপজোখ করা হয়েছিল। কিন্তু ব্লক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকে দাবি করেছিলেন রাজ্যসড়কের ধারে কলেজ হোক। কেউ, কেউ ব্লকের সামনে কলেজ তৈরির দাবি তোলেন। এভাবে দড়ি টানটানির ফলে কলেজ তৈরির বিষয়টি মাঝপথে ধামাচাপা পড়ে যায়।
প্রাক্তন বিধায়ক তথা পাড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি উমাপদ বাউরি বলেন, বিধায়ক থাকার সময় কলেজের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। তিনি কলেজ করার জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন। কোন স্থানে কলেজ হবে সেই নিয়ে ঝামেলার জেরে কাজ আর এগোয়নি। বিজেপি বিধায়ক নদীয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, পাড়াতে কলেজের দাবিতে বিধানসভায় সরব হয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী কোন কথা শুনতে চাননি। কলেজের দাবিতে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।