Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোপাইয়ের পাড় কেটে অবাধে মাটি-বালি লুট, ভয়ে সিঁটিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা

মাটি ও বালি মাফিয়াদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কোনওমতেই রেহাই পাচ্ছে না কবিগুরুর সাধের ছোটনদী কোপাই।

কোপাইয়ের পাড় কেটে অবাধে মাটি-বালি লুট, ভয়ে সিঁটিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা বোলপুর: মাটি ও বালি মাফিয়াদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কোনওমতেই রেহাই পাচ্ছে না কবিগুরুর সাধের ছোটনদী কোপাই। অভিযোগ, পুলিস ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের অন্ধকারে শান্তিনিকেতন থানার বল্লভপুরডাঙা সংলগ্ন সরকারি জমি থেকে মাটি ও বালি তুলে নদীর গতিপথের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে মাফিয়ারা। স্থানীয়দের দাবি, শান্তিনিকেতনের শ্যামবাটি ও গোয়ালপাড়ার এলাকার নির্মাণ সামগ্রী বিক্রেতাদের একাংশ এই মাফিয়াদের সঙ্গে যুক্ত। এই বিক্রেতারা মাফিয়াদের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকারি ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে বলে অভিযোগ। 

Advertisement

কয়েক মাস আগে একইভাবে বনদপ্তরের কয়েকশো একর জমিতে মাটি ও বালি লুটের ঘটনা সামনে এসেছিল। ‌তার প্রেক্ষিতে শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন বোলপুর বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বল্লভপুরডাঙা সংলগ্ন যে সরকারি জায়গায় দেদার মাটি ও বালি তোলা হচ্ছে তা কোন দপ্তরের সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে মাফিয়ারা। যদিও অভিযুক্ত মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলাশাসক বিধান রায়।
কোপাই নদী থেকে বালি ও মাটি চুরির ঘটনা নতুন নয়। প্রতিদিন গভীর রাতে পুলিসের নজর এড়িয়ে ট্রাক্টরের পর ট্রাক্টর বোঝাই করে বালি ও মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে মাফিয়ারা। এই অবৈধ কারবার শুধু নদীর ভারসাম্য ও স্বাভাবিক গতিপথকেই নষ্ট করছে না, পরিবেশের উপরও ফেলছে মারাত্মক প্রভাব। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এই দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকলে কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত কোপাই নদী ধ্বংসের মুখে পড়বে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বল্লভপুরডাঙার নদী সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার বিঘার পর বিঘা সরকারি জমি প্রথমে মাটি লুট করে বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি করা হয়েছে। এরপর নদীর পাড় কেটে সেই গর্তে ঢোকানো হচ্ছে জল। প্রাকৃতিকভাবেই নদীর বালি গর্তগুলিতে এসে জমছে। তারপর ওই বালি তুলে সারা বছর কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছে মাফিয়ারা। স্থানীয় আদিবাসীদের অভিযোগ, এই চক্রের পিছনে মাফিয়াদের পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রী বিক্রেতারাও রয়েছে। ‌তারা নির্মীয়মান বাড়ির মালিকদের কাছে অর্ডার পেয়ে মাফিয়াদের বরাত দিচ্ছে। ‌আর মাফিয়ারা নদী থেকে চুপিসারে বালি তুলে সাপ্লাই দিচ্ছে। আবার কোথাও জমি ভরাটের জন্য মাটি বিক্রি করছে। অথচ, কোপাই নদী থেকে বালি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বেআইনি বলে প্রশাসন ঘোষণা করেছে। বল্লভপুরডাঙার সাধারণ মানুষ সবকিছু জেনেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। 
শান্তিনিকেতন থানার পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, মাটি ও বালি তোলার ঘটনায় মাঝেমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ‌এমনকী, ওই এলাকাতে পুলিস ক্যাম্পও করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের ট্রাক্টরও আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও অভিযান চালানো হবে। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, কোপাই নদী বীরভূমের অন্যতম ঐতিহ্য। সেখানে যারা মাটি ও বালি লুট করছে, 
তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ