Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁশকুড়ায় জমি কেনাবেচায় মোড়লদের হস্তক্ষেপ, বিক্রেতাকে সামাজিক বয়কট

জমি কেনাবেচায় গ্রাম কমিটিকে কমিশন না দেওয়ায় পাঁশকুড়ায় সামাজিক বয়কটের শিকার হচ্ছেন বিক্রেতা। জমি রেজিস্ট্রির পরেও দখল পাচ্ছেন না ক্রেতা।

পাঁশকুড়ায় জমি কেনাবেচায় মোড়লদের হস্তক্ষেপ, বিক্রেতাকে সামাজিক বয়কট
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জমি কেনাবেচায় গ্রাম কমিটিকে কমিশন না দেওয়ায় পাঁশকুড়ায় সামাজিক বয়কটের শিকার হচ্ছেন বিক্রেতা। জমি রেজিস্ট্রির পরেও দখল পাচ্ছেন না ক্রেতা। পাঁশকুড়া থানার মাইসোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাবল্লভপুর গ্রামের ওই ঘটনায় থানায় এফআইআর করেও কোনও সুরাহা মিলছে না। বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন ডেবরা থানার গোলগ্রাম পঞ্চায়েতের চকপ্রয়াগ গ্রামের শ্রীমন্ত ছাতিক। পেশায় আমিন শ্রীমন্তবাবু ফি-বছর প্লাবনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে রাধাবল্লভপুর গ্রামে ১৭ডেসিমল জমি কিনেছেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা বিমল দোলাই সেই জমি বিক্রি করেছেন। ঢালাই রাস্তা থেকে ওই জমি যাওয়ার মাঝে একটি নয়ানজুলি রয়েছে। ভরানো সেই নয়ানজুলির উপর অনেক কাঁচাপাকা বাড়িও তৈরি হয়েছে। নিজের জমিতে যাতায়াতের জন্য সেই নয়ানজুলি ব্যবহারের সত্ত্বও কিনেছিলেন শ্রীমন্তবাবু। যদিও গ্রামের মোড়লদের তুষ্ট না করায় তিনি নিজের জমির দখল পাচ্ছেন না। আবার মাতব্বরদের নির্দেশে শ্রীমন্তবাবুর কেনা নয়ানজুলির অংশে গ্রামের একজন অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ। পাঁশকুড়া থানার আইসি সমর দে বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

ডেবরা থানার চকপ্রয়াগ গ্রামের শ্রীমন্তবাবু ২০২২সালে প্রায় ন’লক্ষ টাকা দিয়ে ওই গ্রামে জমিটি কেনেন। পাশাপাশি ভরানো নয়ানজুলির অংশে যাতায়াতের জন্য সত্ত্ব কিনে নেন। তাঁদের অনুমতি ছাড়াই অন্য জেলার বাসিন্দাকে জমি বিক্রির ঘটনায় গ্রামের মোড়লদের কোপে পড়েন বিমলবাবু। তাঁকে সামাজিক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওই মোড়লরা। সেইমতো বিমলবাবুর এখনও বয়কট চলছে। রাধাবল্লভপুর গ্রামে তাঁর দেড় বিঘা জমিতে চাষাবাদ বন্ধ। এবছরও লাঙল নামেনি। গ্রামের পুজোয় ওই পরিবার অংশ নিতে পারে না। নিজের বাড়িতে তুলসী মঞ্চে পুজোর সময় গ্রামের কীর্তন দলের সেখানে যাওয়া নিষেধ রয়েছে।
জমি বিক্রেতাকে সামাজিক বয়কট ও ক্রেতাকে জমির দখল নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায় শ্রীমন্তবাবুর বাড়ি বানানোর স্বপ্নও অধরা। পাঁশকুড়া থানার পুলিসের কাছে অভিযোগ করা হলেও অভিযুক্ত মোড়লদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুলিস। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুজিত রায়ের কাছেও একাধিকবার এনিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন শ্রীমন্তবাবু। সুজিতবাবু বলেন, আমি একাধিকবার এনিয়ে বৈঠকে বসেছি। গ্রামের কয়েকজন মোড়ল মাতব্বর এসব করেছে। কোনওরকম সামাজিক বয়কট করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছি। তারপরও বয়কট চলতে থাকলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছি।
২০২৪সালে ৬মার্চ শ্রীমন্তবাবু ওই ঘটনায় গ্রামের পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। তারপর তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। শ্রীমন্তবাবু বলেন, থানায় অভিযোগ করার পরও পুলিস নিষ্ক্রিয়। বাধ্য হয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী নম্বরে অভিযোগ করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগও পাঠিয়েছি। বিমলবাবু বলেন, সামাজিক বয়কট থাকায় দেড় বিঘা জমিতে চাষ বন্ধ। গ্রামের পুজোয় অংশ নিতে পারি না। গ্রামের কেউ আমার সঙ্গে কথা বললে ৫০হাজার টাকা জরিমানার ফতোয়া চাপানো আছে। অভিযুক্তদের অন্যতম অশোক দোলই বলেন, এখন কোনও সামাজিক বয়কট নেই। সবকিছু মিটমাট হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ