সংবাদদাতা, ডোমকল: সামর্থ যাচাই না করেই ঋণ দিচ্ছে একের পর এক মাইক্রোফিনান্স সংস্থা। আবার অনেকে ভরসা করছেন পাড়ার পরিচিত ‘বাবু’দের ওপরে। হঠাৎ করে টাকার প্রয়োজন, আর সেই মুহূর্তে সাত-পাঁচ না ভেবেই ঋণ নিচ্ছেন বহু মানুষ। কিন্তু সময়মতো টাকা শোধ করতে না পারলেই শুরু হচ্ছে সমস্যা। প্রথমে কিস্তির চাপ, পরে মানসিক অবসাদ—শেষমেশ অনেকেই নিচ্ছেন চরম সিদ্ধান্ত।
এই যেমন ডোমকলের একটি এলাকার মাস সাত-আট আগের একটি ঘটনা। সুদে ভাইয়ের থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন দিদি। মাত্র ছ’ মাসের মধ্যেই সুদ আর আসল মিলিয়ে ওই টাকার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল লক্ষাধিক টাকায়। সময়মতো সেই ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় দিদির বাড়িতেই ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল ভাইয়ের বিরুদ্ধে। শুধু ওই ঘটনাই নয়, মাস খানেক আগেই রানিনগরের একটি এলাকায় একজন ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় তার বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছিল মাইক্রোফিনান্স সংস্থার কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, সাগরপাড়ার দেবীপুরেও বুধবার সকালে অতুল মণ্ডল নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃতের পরিবারের লোকেরা জানিয়েছিল, অতুলবাবু ব্যবসায়িক কারণে সমস্যায় পড়ায় বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন।
সমাজকর্মীদের একাংশের দাবি, প্রথমদিকে সহজ কিস্তিতে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি পেয়ে মানুষ আশ্বস্ত হন। কিন্তু আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব না করে নেওয়া এই ঋণ সময়মতো শোধ না করতে পারলেই বিপদ শুরু। কিস্তির পরিমাণ বেড়ে যায়, তার সঙ্গে বাড়তে থাকে মানসিক চাপও। মাইক্রোফিনান্স সংস্থার কর্মীরা অনেক সময়েই টাকার জন্য জোরাজুরি করেন, বার বার বাড়িতে এসে কিস্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পাড়ার পরিচিত ধারদেনার ক্ষেত্রে আবার সামাজিক লজ্জা ও অপমানের ভয় কাজ করে। এই সব মিলিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে।
জলঙ্গির এক বধূ জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য হুট করে ২০ হাজার টাকা ধার নিই। তখন মনে হয়েছিল খুব সহজেই কিস্তি শোধ করে দিতে পারব। কিন্তু পরে স্বামীর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে আতঙ্কে থাকি।
সমাজকর্মী মেহেবুব শাহ আলম বলেন, মফস্সলের বহু মানুষ এখনও আর্থিক সচেতনতা থেকে অনেক দূরে। তাঁরা জানেন না, ঋণ নেওয়ার আগে কীভাবে নিজের ক্ষমতা বিচার করতে হয়। আর এই অজ্ঞানতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু সংস্থা ও ব্যক্তি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, অবৈধ সুদের কারবার আটকাতে আমাদের তরফে অভিযান চলছে। পাশপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।