Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গিপুর মহকুমায় গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

জঙ্গিপুর মহকুমায় গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: অসহ্য গরম। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। এমন সময়ে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিংয়ে পরিস্থিতি দুঃসহ হয়ে উঠেছে। জঙ্গিপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেইসঙ্গে সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের কারণে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারছে না।

Advertisement

মহকুমার বিভিন্ন এলাকার মানুষের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থায় ফোন করলেও কেউ ফোন ধরে না। আবার অনেকসময় অভিযোগ জানিয়েও কাজ হয় না। এনিয়ে ভুক্তভোগীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। বাড়ি বাড়ি ফ্যান, কুলার, এসি চলে। একশ্রেণির গ্রাহক বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থায় নির্দিষ্ট আবেদন না করেই এসি ব্যবহার করেন। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা আন্দাজ করা সম্ভব হয় না।
জঙ্গিপুর মহকুমার ফরাক্কা ও সাগরদিঘিতে দু’টি আন্তর্জাতিক মানের তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। তা সত্ত্বেও মহকুমাজুড়ে লোডশেডিংয়ে মানুষ নাজেহাল হচ্ছেন। জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, ফরাক্কা, সূতি, সামশেরগঞ্জ সহ সাগরদিঘি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রায় মাসখানেক ধরে মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ থাকছে না। টানা তাপপ্রবাহে গরম বাড়ছে। বিক্ষিপ্তভাবে দু’এক পশলা বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। বেলা বাড়লেই পথঘাট শুনসান হয়ে যাচ্ছে। রোদের ভয়ে মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। কিন্তু ঘরেও বা শান্তি কোথায়? বিদ্যুৎ না থাকলে অস্বস্তিকর, ভ্যাপসা গরমে জেরবার হতে হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দু’তিন ঘণ্টা এলাকা বিদ্যুৎহীন থাকছে। কখনও আবার গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রায় ১০ঘণ্টা বাদে পরদিন দুপুরে তা ফিরছে। আকাশে মেঘ করলে বা সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
ফরাক্কার বাসিন্দা নবাব শরিফ বলেন, মাসখানেক ধরে বিদ্যুতের সমস্যা চলছে। শিশুরা গরমে ছটফট করছে। তাই সারা রাত হাতপাখা নিয়ে ওদের বাতাস করতে হচ্ছে। রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা সুব্রত দাস, সুমনা দাস বলেন, রোজ লোডশেডিং হচ্ছে। একবার গেলে দু’তিন ঘণ্টার আগে বিদ্যুৎ ফেরে না। এই মহকুমার বেশিরভাগ পরিবার গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। হাতে গোনা কিছু বাড়িতে ইনভার্টার আছে। সেজন্য লোডশেডিংয়ে বেশিরভাগ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।
জঙ্গিপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বলেন, এই সাপ্লাই অফিসের অধীনে বেশ বড় এলাকা রয়েছে। এত বড় এলাকায় কোথাও ফল্ট হলে বা তার ছিঁড়ে গেলে তা মেরামত করতে একটু সময় লাগে। তবে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ